• ই-পেপার

সরিষাবাড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

৮ বছর পলাতক থাকার পর বাঞ্ছারামপুরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

বাঞ্ছারামপুর ( ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
৮ বছর পলাতক থাকার পর বাঞ্ছারামপুরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে চেক ডিজঅনার মামলায় আদালতের দেওয়া রায় ও নির্দেশনায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশ।

রবিবার (২৮ জুন) রাত ১১টার দিকে ওয়ারেন্টভুক্ত মৃত আ. অদুদ মিয়ার ছেলে আমজাদকে (৫১) বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার একটি দল উপজেলার দড়িয়াদৌলত ইউনিয়নের কদমতলী বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি উপজেলার দড়িয়াদৌলত ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার বাসিন্দা মো. আমজাদ হোসেন একটি সাজা পরোয়ানাভুক্ত (সিআর) মামলার আসামি ছিলেন।

নরসিংদী জেলা দায়রা জজ আদালত এন আই অ্যাক্টের ১৩৮(১) ধারায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। আদালতের জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন। 

ক্ষতিগ্রস্ত বাদী সূত্রে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতারক আমজাদ ২০১৮ সালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি ইউনিয়নের বাহাদুরপর গ্রামের জনৈক ইব্রাহিম খলিল নামের এক ব্যক্তির নরসিংদীর তার নিজস্ব কাপড় ফ্যাক্টরি থেকে ডাচ বাংলা ব্যাংকের চেক দিয়ে ৩০ লাখ টাকার পণ্য কিনেন। চেকটি ডিজঅনার হয়। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে নরসিংদী কোর্টে মামলা করলে আদালত এক বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ টাকা পরিশোধের রায় প্রদান করেন। 

জানা গেছে, আমজাদ হোসেন ইতোমধ্যে বহু ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যবসার নাম করে চেক প্রদান বা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মালামাল ক্রয় করে সে টাকা আর পরিশোধ করত না। কিন্তু এবার তাকে আদালত ছাড় দেয়নি।

টঙ্গীতে আরফিনার ভবনে অভিযানে মিলল মাদক ও নগদ অর্থ, গ্রেপ্তার ৩

আঞ্চলিক প্রতিনিধি গাজীপুর
টঙ্গীতে আরফিনার ভবনে অভিযানে মিলল মাদক ও নগদ অর্থ, গ্রেপ্তার ৩
সংগৃহীত ছবি

টঙ্গীর শীর্ষ মাদক সম্রাজী আফরিনা বেগমের মাদকের টাকায় নির্মিত ছয়তলা ভবনসহ তার একাধিক স্থাপনায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযানে ৬৬ বোতল ফেনসিডিল,  ইয়াবা ও মাদক সেবনের নানা সরঞ্জাম, ৪৬টি মোবাইল ও নগদ ৩৯ হাজার টাকা উদ্ধার করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) রাতে জিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ এই অভিযান চালায়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে এই অভিযান হয়। অভিযানে মাদক সম্রাজী আরফিনার নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকের মাঠ মাদক বস্তির জনৈক আমির হোসেনের ঘর থেকে ৬৬ বোতল ফেনসিডিল জব্দ হয়।  আরফিনার একাধিক স্থাপনা ও গোপালপুর এলাকায় মাদকের টাকায় নির্মিত ছয়তলা ভবনে তল্লাসী করে ১১ পুঁড়িয়া গাঁজা, চার লিটার চোলাই মদ, ৪৬ টি মোবাইল ও মাদক বিক্রির ৩৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এসময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মাদক সম্রাজী আরফিনার ছয়তলা ভবনের এক ভাড়াটিয়া মালয়েশিয়া প্রবাসী এক ব্যাক্তির স্ত্রীকে সিগারেটে ইয়াবা ভরে খেতে পাওয়া যায়। ওই নারী স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে আরফিনার বাসায় ভাড়ায় এসে মাদক সেবন করছেন বলে সাংবাদিকদের নিকট স্বীকার করেন।

এদিকে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মাদক সম্রাজী আরফিনা বেগম দীর্ঘ দিন ধরে ব্যাংকের মাঠ মাদক বস্তিতে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবসার আড়ালে মাদকের ব্যবসা করে আসছেন। পদবিহীন জনৈক প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার আশ্রয়ে তিনি বীরদর্পে মাদকের ব্যবসা করে আসছে। ফলে সহজে কেউ কিছু বলতে পারে না। 

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। মাদক নির্মূলের পূর্ব পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো মাদক কারবারি, মাদক সেবী ও গডফাদার আইনের বাইরে থাকবে না। 

বগুড়ায় কার হাউজে আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি

বগুড়া অফিস
বগুড়ায় কার হাউজে আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি
ছবি: কালের কণ্ঠ

বগুড়া শহরের মাটিডালী বিমান মোড় এলাকায় ‘জারা কার হাউজ’ নামের একটি গাড়ির শোরুম ও সার্ভিসিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার (২৮ জুন) বেলা পৌনে ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

জানা গেছে, মাটিডালী বিমান মোড়ের কাছে অবস্থিত ওই শো রুমটিতে নতুন গাড়ি বিক্রির পাশাপাশি গাড়ি সার্ভিসিংয়ের কাজ করা হয়। রবিবার দুপুরে একটি গাড়ি সার্ভিসিং করার সময় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো শোরুমে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় লোকজন প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা এসে ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অগ্নিকাণ্ডের শোরুমে থাকা পাঁচটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি গাড়ি পুড়ে গেছে এবং তিনটি গাড়ির রং চটে গেছে।

প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মনোয়ার হোসেন বলেন, শোরুমটিতে থাকা ১৭-১৮টি গাড়ির মধ্যে ৬টি গাড়ি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েক মাস ধরে নির্মাণাধীন এই শোরুমে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মূল্য কমপক্ষে দেড় কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন।

প্রতিষ্ঠান স্বত্বাধিকারী রাকিবুল ইসলাম রাকিবের দাবি, আগুনে তাদের কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর পুলক কুমার গোস্বামী বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

প্রাথমিকভাবে গাড়ি সার্ভিসিংয়ের সময় আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেলেও সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষেই আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।

খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক আহত

খুলনা অফিস
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক আহত
আহত রফিকুল ইসলাম মানিক। ছবি : কালের কণ্ঠ

খুলনা মহানগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে রফিকুল ইসলাম মানিক (৩৫) নামের এক যুবক আহত হয়েছেন। রবিবার (২৮ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর গল্লামারীর আইডিয়াল নার্সিং হোমের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত রফিকুল ইসলাম মানিক নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার দারুস সালাম মহল্লার রোস্তম আলীর ছেলে।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা মানিকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

মানিকের মা জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে ভিডিও কলে তার ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে একজন ব্যবসায়ী। কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল বলে আমি জানি না। হঠাৎ করেই এ ঘটনা ঘটল।’

স্বজনরা জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর স্থানীয়রা তাকে দ্রুত খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ রফিকুল ইসলাম মানিক বিভিন্ন থানার একাধিক মামলার আসামি এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।