• ই-পেপার

নারায়ণগঞ্জে ৩ চোরাই গাড়িসহ গ্রেপ্তার ৩

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় আখাউড়ায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ

মাদক নির্মূলের বার্তা বক্তাদের

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিধি
বিশ্বকাপ উন্মাদনায় আখাউড়ায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ
ছবি: কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দেবগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শনিবার বিকেলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ভক্তদের মাঝে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ম্যাচে দেবগ্রাম এলাকা থেকে মাদক নির্মূলের কড়া বার্তা দেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন পৌর বিএনপির সদস্যসচিব মো. আক্তার খান। খেলার উদ্বোধন করেন সমাজসেবক মো. আলমগীর খান। সমাজসেবক ফরিদ মিয়ার সভাপতিত্বে এতে  স্থানীয় বাসিন্দা শেখ আইয়ুবুর রহমান, ফয়েজ আহম্মেদ, রুহুল আমিন খান সুমন, কবির খান, শেখ মো. ইশান, মোবাশ্বির আহম্মেদ, হুমায়ুন কবির নয়ন, রামীম খান, শাহীন মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পৌর বিএনপির সদস্যসচিব আক্তার খান বলেন, ‘মাদক থেকে দূরে থাকতে হলে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ভক্তদের এ প্রীতি ম্যাচ থেকে আমরা বার্তা দিতে চাই যে, দেবগ্রামকে মাদকমুক্ত করা হবে।’

আর্জেন্টিনাভক্ত হুমায়ুন কবির নয়ন বলেন, ‘এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুই দলের ভক্তদের মাঝে সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সহায়ক হবে। একইসঙ্গে যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রেখে খেলাধুলায় মগ্ন করতে ভূমিকা রাখবে। আমরা এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে মাদক নির্মুলেরও বার্তা দিয়েছি।’

ব্রাজিলভক্ত মো. রামীম খান বলেন, ‘দুই দলের ভক্তদের নিয়ে আমাদের এ আয়োজন। যুব সমাজকে খেলাধুলামুখী করতে আমরা এ আয়োজন করেছি। একইসঙ্গে এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে যে প্রয়াস চালানো হচ্ছে, এরই অংশ হিসেবে আমরা সবার কাছে বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি।’

পার্বতীপুরে কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
পার্বতীপুরে কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় হাদিদ আলবাব স্মরণ (২২) নামের এক কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে উপজেলার মন্মথপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রাম থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত হাদিদ আলবাব স্মরণ ওই গ্রামের মাসুদ ফরহাদ পাপন আলীর ছেলে। তিনি দিনাজপুর সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হাদিদ মাদকাসক্ত ছিলেন। এ নিয়ে স্বজনদের সঙ্গে প্রায়ই তার বিরোধ হতো। শনিবার সকালে পরিবারের কাছে টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে তিনি নিজ কক্ষে চলে যান। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘরে প্রবেশ করে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

পার্বতীপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।’

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

শীতলক্ষ্যায় জাল ফেললেই উঠছে সাকার ফিশ, বিপাকে জেলেরা

রিপন আনসারী, গাজীপুর
শীতলক্ষ্যায় জাল ফেললেই উঠছে সাকার ফিশ, বিপাকে জেলেরা
ছবি : কালের কণ্ঠ

গাজীপুরের কালীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে দেশীয় মাছের পরিবর্তে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে আগ্রাসী বিদেশি প্রজাতির ‘সাকার ফিশ’। বাণিজ্যিক মূল্যহীন ও খাওয়ার অনুপযোগী এই মাছের আধিক্যে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় জেলেরা। একই সঙ্গে দেশীয় মাছ ও নদীর জীববৈচিত্র্যের ওপর এর বিরূপ প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্য বিভাগ।

শনিবার (২৭ জুন) সরেজমিন শীতলক্ষ্যা নদীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীতে জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে সাকার ফিশ। মাছটির শরীরে থাকা ধারালো কাঁটার কারণে জেলেরা অনেক সময় আহতও হচ্ছেন। বাজারে এর কোনো চাহিদা না থাকায় মাছগুলো ফেলে দিতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকারখানার বর্জ্যে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি দূষিত হওয়ায় দেশীয় মাছের সংখ্যা আগেই কমে গেছে। এর মধ্যে সাকার ফিশের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।

শীতলক্ষ্যা নদীর জেলে রাম চন্দ বলেন, ‘আগের মতো দেশীয় মাছ আর পাওয়া যায় না। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন জালে ৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত সাকার ফিশ উঠছে। এই মাছ কেউ কিনতেও চায় না।’

ভাদার্তী দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইফুর রহমান বলেন, ‘সাকার ফিশ দেশীয় মাছের ডিম ও ছোট মাছ খেয়ে ফেলছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শীতলক্ষ্যায় দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সামা বলেন, ‘সাকার ফিশ একটি বিদেশি আগ্রাসী প্রজাতির মাছ। এটি জলজ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং দেশীয় মাছের খাদ্য ও প্রজননের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এ মাছ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।’

স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দারা শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ রোধ এবং আগ্রাসী সাকার ফিশ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে নদীর দেশীয় মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য আরো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

এমপির ঐচ্ছিক তহবিলের তালিকায় মেয়ের নাম, নড়াইলে সমালোচনা

নড়াইল প্রতিনিধি
এমপির ঐচ্ছিক তহবিলের তালিকায় মেয়ের নাম, নড়াইলে সমালোচনা
সংগৃহীত ছবি

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় তাঁর মেয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়।

জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের হিসাব শাখা থেকে গত ১৪ জুন জারি করা এক চিঠিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় ‘ফাইজা’ নামে দুই স্থানে নাম রয়েছে। একটিতে পিতার নাম হিসেবে ‘মো. বাচ্চু’ এবং অন্যটিতে ‘মো. আতাউর’ উল্লেখ করা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই ১০ হাজার টাকা করে অনুদান বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দুটি নামই সংসদ সদস্যের মেয়ের।

নথি অনুযায়ী, নড়াইল সদর উপজেলার জন্য প্রণীত তালিকায় ২১ জনের নাম রয়েছে। এর মধ্যে সংসদ সদস্যের নিজ গ্রাম থেকে ৯ জন এবং তাঁর শ্বশুরবাড়ির ইউনিয়ন লাহুড়িয়া থেকে ৭ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, অতীতে তাঁর ঐচ্ছিক তহবিলে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও চলতি অর্থবছরে তা কমে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকায় নেমে এসেছে।

তিনি দাবি করেন, হঠাৎ করেই তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) তাঁকে তালিকা জমা দেওয়ার কথা জানালে তিনি বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নাম সংগ্রহ করতে বলেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমার স্বাক্ষর করা প্যাডে পিএস তালিকা তৈরি করেছে। বিষয়টি ফেসবুকে দেখার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। আমি আমার সন্তানের নামে টাকা নিতে চাই না। নতুন একটি তালিকা করেছি, সেই তালিকা অনুযায়ী অনুদান দিতে বলেছি।’

তবে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি এম রাহসিন কবীর বলেন, সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের ভিত্তিতে যে তালিকা জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে, নীতিমালা অনুযায়ী সেই তালিকার বাইরে কাউকে অনুদান দেওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘সচিবালয় থেকে যাদের নামে বরাদ্দ এসেছে, তাদেরকেই অনুদান দিতে হবে। তালিকার বাইরে নতুন কোনো নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই। নির্ধারিত ব্যক্তি অনুদান গ্রহণ না করলে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে।’