• ই-পেপার

ফরিদপুরে ছোট ভাইকে হারিয়ে বোনের আহাজারি

আমার বাবাকে সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে হবে

যশোরে মাদক সেবনের অভিযোগে গার্মেন্টসকর্মীর কারাদণ্ড

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরে মাদক সেবনের অভিযোগে গার্মেন্টসকর্মীর কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

যশোরের অভয়নগরে গাঁজা সেবনের দায়ে মিঠু সরদার (২৮) নামের এক গার্মেন্টসকর্মীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মিঠু সরদার উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের কামকুল গ্রামের মৃত জাকারিয়া সরদারের ছেলে। তিনি ভারতের কলকাতার একটি গার্মেন্টসে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি দেশে ফিরে আসেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার সুব্রত কুমার রায় জানান, শনিবার দুপুরে উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের হরিশপুর বাজারে একটি মুদি দোকানের পাশে গাঁজা সেবনের সময় পুলিশ মিঠু সরদারকে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

মিঠু সরদার জানান, দেশে ফেরার পর হরিশপুর বাজারে হুসাইন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২০০ টাকার গাঁজা কিনে সেবনের সময় পুলিশ তাকে আটক করে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু বলেন, ‘গাঁজা সেবনের অপরাধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একজনকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে।’

ঈশ্বরগঞ্জ

বিদ্যালয় মাঠে ট্রাক্টর পার্কিং, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
বিদ্যালয় মাঠে ট্রাক্টর পার্কিং, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরহোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল করে পার্কিং করা হচ্ছে মাটি বহন করা ট্রাক্টর। শনিবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের চরহোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল করে পার্কিং করা হচ্ছে মাটি বহন করা ট্রাক্টর। এ ছাড়া পানি নিষ্কাশনের পথে মাটি রাখায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। 

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারী ট্রাক্টর চলাচল ও পুকুরের ভাঙনে সংলগ্ন বিদ্যালয় ভবনে অসংখ্য ফাটল দেখা দিয়েছে, খসে পড়ছে দেয়ালের পলেস্তরা। এরই মধ্যে বিদ্যালয়ের একটি ভবনের একাংশ ধসে পড়েছে। 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে ৫০ শতাংশ জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় চরহোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭৯। আর শিক্ষক রয়েছেন আটজন।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চরহোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান বেশ  ভালো। প্রতিষ্ঠানটির খেলার মাঠ দখল ছাড়াও বিদ্যালয় ভবন ঘেঁষে রয়েছে আব্দুস সাত্তার ফকির নামে স্থানীয় এক বাসিন্দার পুকুর। পাড় ভাঙতে থাকায় বিদ্যালয়ের একটি ভবনের একাংশ ধসে পড়েছে পুকুরটিতে। 

চরহোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার ও জুবাইদ রায়হান আবিরের ভাষ্য, 'স্কুলের মাঠে রাখা ট্রাক্টর ও কাদার কারণে আমরা খেলাধুলা করতে পারি না। ক্লাসরুমে বসে ক্লাস করতে আমাদের ভয় লাগে, কখন জানি ভেঙে পড়ে। খেলাধুলার জন্য আমাদের পরিষ্কার মাঠ আর পড়ালেখার জন্য নতুন বিল্ডিং দরকার।’

স্থানীয় আব্দুল বারেক, মোহাম্মদ আলী, মো. আব্দুল হেলিম ও আরিফুল ইসলামসহ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, 'যারা স্কুল মাঠে ট্রাক্টর রাখে, তারা অন্য এলাকার বাসিন্দা। মাঠে ট্রলি রাখা ও জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারে না। এতে তাদের পড়ালেখার ক্ষতি হচ্ছে; বিদ্যালয়ের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আমরা কাকে কী বলবো, সবাই তো এলাকার মানুষ ‘

সরেজমিন স্কুল মাঠে গিয়ে কোনো ট্রাক্টর চালককে পাওয়া যায়নি। তবে মুঠোফোনে জাহাঙ্গীর ফকির নামের এক ট্রাক্টরচালক বলেন, ‘স্কুল মাঠে ট্রাক্টর রাখা মোটেও উচিত না। আমার ট্রাক্টর বাড়িতে রাখি। যারা মাঠে ট্রাক্টর রাখে, তাদের বার বার নিষেধ করলেও কথা শোনে না।’

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক শরিফুন নাহার বলেন,'আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং ড্রেসআপ শতাভাগ। ভালো ফলের পাশাপাশি খেলাধুলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রথম হয়েছে আমাদের স্কুল। কিন্তু স্কুলমাঠ দখল করে মাটি বহন করা ট্রাক্টর পার্কিং করছে। এ ছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। এ নিয়ে ট্রাক্টর চালকদের বারবার নিষেধ করা হলেও তারা কথা শোনে না। এ ছাড়া বিদ্যালয় ভবনের শ্রেণিকক্ষে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, 'প্রধান শিক্ষকের উচিত ছিল স্কুল মাঠে ট্রাক্টর না রাখার ব্যাপারে কঠোর হওয়া। তিনি ব্যর্থ হলে আমাদের জানাতে পারতেন। যেহেতু এখন জেনেছি, ব্যবস্থা নেওয়া হবে ‘ 

ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবনের বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, 'এসব বিদ্যালয়ের প্যালাসাইডিং ও মেরামতের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে। সেইসঙ্গে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও অন্যান্য সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, ‘স্কুলমাঠে গাড়ি পার্কিং নিষিদ্ধ। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

হবিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি
সংগৃহীত ছবি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অবৈধ পুশ ইনের একটি চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (২৭ জুন) রাত ৩টার দিকে তেলিয়াপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্র জানায়, হবিগঞ্জ বিজিবি ব্যাটালিয়নের তেলিয়াপাড়া বিওপির দায়িত্বাধীন সীমান্ত এলাকার ১৯৮২ নম্বর মেইন পিলারের ১১-এস সাব-পিলারসংলগ্ন শূন্যরেখায় বিএসএফ এ পুশ ইনের চেষ্টা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, গভীর রাতে সীমান্তে নিরাপত্তা বাতি (সিকিউরিটি লাইট) বন্ধ করে অজ্ঞাতসংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়।

খবর পেয়ে ৫৫ বিজিবির একটি টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে অনুপ্রবেশের চেষ্টা শূন্যরেখাতেই প্রতিহত করে। পরে বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়।

বিজিবি জানায়, অভিযানের সময় স্থানীয় সীমান্তবাসীরাও তাদের সহযোগিতা করেছেন।

৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমানে তেলিয়াপাড়া সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সীমান্ত নিরাপত্তায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।’

মায়ানমারে পাচারের সময় সিমেন্টবোঝাই ২ বোট জব্দ, আটক ২১

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
মায়ানমারে পাচারের সময় সিমেন্টবোঝাই ২ বোট জব্দ, আটক ২১
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন দ্বীপসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে অভিযান চালিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া এক হাজার ৪৫০ বস্তা সিমেন্টসহ দুটি ফিশিং বোট জব্দ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ সময় ২১ জনকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকে প্রায় ১৩ মাইল দূরে টহলরত নৌবাহিনীর একটি জাহাজ পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে সিমেন্ট বহনকারী ‘এফবি ফাতেমা হোসনা’ ও ‘এফবি নিঝু রাব্বি’ নামের দুটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের ফিশিং বোট আটক করা হয়।

পরে বোট দুটিতে তল্লাশি চালিয়ে ‘এফবি ফাতেমা হোসনা’ থেকে ১০ জনের সঙ্গে ৬৫০ বস্তা ডায়মন্ড সিমেন্ট এবং ‘এফবি নিঝু রাব্বি’ থেকে ১১ জনের সঙ্গে ৮০০ বস্তা ডায়মন্ড সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিদের, জব্দ করা বোট এবং উদ্ধার করা সিমেন্টের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী জানিয়েছে, দেশের সমুদ্রসীমায় চোরাচালান, মাদক পাচারসহ সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।