ফরিদপুরে একটি মহিলা মাদরাসার আবাসিক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. আশরাফ আলীকে (৪৬) ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ আদায়ে ব্যর্থ হলে আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সেই টাকা ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আশরাফ আলী ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ গোয়ালচামট এলাকার রওজাতুন-নেছা মহিলা মাদরাসার পরিচালক। মাদরাসার একটি কক্ষে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তিনি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল বিকেলে মাদরাসার হেফজ বিভাগের এক আবাসিক ছাত্রীকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন আশরাফ আলী। ওই সময় তার স্ত্রী-সন্তান বাসায় ছিলেন না। একপর্যায়ে তিনি ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তবে ছাত্রীটি কৌশলে তার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসে এবং পরে পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানায়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। পরে ছাত্রীর বাবা কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করলেও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। বিচার কার্যক্রমের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি এলাকা থেকে পালিয়ে যান।
তদন্ত শেষে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূর হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ডাদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, আদালত ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। জরিমানার ৭০ হাজার টাকা আদায়ে প্রয়োজন হলে আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে তুলে দিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।





