গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাটের অন্তত ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানায়, পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে বোরাঘাট নদীতে পানি বাড়ে। একপর্যায়ে নদী উপচে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে বহু মানুষের ঘরবাড়িতে পানি উঠে যায়।
সূত্র জানায়, উপজেলার বোরাঘাট নদীঘেঁষা তিন ইউনিয়নের অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। এর মধ্যে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে ১৪টি গ্রামের বাসিন্দারা। পানি উঠে যাওয়ায় কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। এ ছাড়া রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
উপজেলার ৫ নম্বর গাজিরভিটা ইউনিয়নের বোয়ালমারা, আনচেংগ্রী মহাজনীকান্দা, পশ্চিম সমনিয়াপাড়া, ধলাপানি, সূর্যপুর, পূর্ব সমনিয়াপাড়া, ভূটিয়াপাড়া, নলকুড়া, ভালুকাকুড়া; ৮ নম্বর নড়াইল ইউনিয়নের গোপীনগর; ৪ নম্বর হালুয়াঘাট সদর ইউনিয়নের কাওয়ালীজান, পূর্ব কালিয়ানীকান্দা এবং পশ্চিম কালিয়ানীকান্দা গ্রামের বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সোমবার (২২ জুন) বিকেলে সূর্যপুর ও বোয়ালমারা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ি ঢলে বোরাঘাট নদীর পশ্চিম পাড় ভেঙে গছে। ঢলের কারণে নদীর পানি বাড়িঘরে উঠে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় পানি সরে গেলেও ঢলের সঙ্গে আসা পলিমাটি সরাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানায়, এই দুর্ভোগ শুধু বর্ষার মৌসুমে নয়। বছরের অন্য সময়ও বিশেষ করে ভারতের মেঘালয়ে বৃষ্টি হলে বোরাঘাট নদী দিয়ে পাহাড়ি ঢল নেমে আসে। মুহূর্তেই নদীপারের বাড়িঘরে পানি উঠে যায়। মাটির দেয়াল ধসে পড়ে। শুধু ঘরবাড়ি নয়, পানিতে তলিয়ে যায় কৃষিজমিও।
বোয়ালমারা গ্রামের কৃষক জামাল হোসেন বলেন, ‘গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ঘরবাড়িতে পানি উঠে গেছে। পানির সঙ্গে পলিমাটি ঘরবাড়িতে উঠে যাওয়ায় অনেক বাড়িতে রান্নার কাজ বন্ধ রয়েছে। শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছি। এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সহযোগিতা পাইনি।’
বোয়ালমারা এলাকার দিনমজুর আবুল কালাম বলেন, ‘ঢলের পানি নেমে গেলেও ঘরে রান্না করার মতো পরিস্থিতি নেই। আমরা অন্যের উঁচু বাড়িতে রান্না করে খাচ্ছি।’
ইউপি সদস্য নূরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামের প্রত্যেক বাড়ি ঢলের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত। তাছাড়া রাস্তাঘাটে কাদা জমে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এরইমধ্যে বিষয়টি উপজেলায় জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নেবেন বলেছেন।’
হালুয়াঘাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশীষ কর্মকার বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরে শুকনো খাবার পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।’ তিনি বলেন, ‘আগামী বছর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে আইলাতলী ক্যাম্প থেকে নড়াইল পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার এলাকায় নদীখনন ও পাড় উচুঁ করার কাজ শুরু হবে। কাজটি সম্পন্ন হলে আশা করি এই এলাকা ঢল হাত থেকে রক্ষা পাবে।’