• ই-পেপার

শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের নজরদারিতে সিসি ক্যামেরা

পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
ছবি: কালের কণ্ঠ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে রাসেল মিয়া (৩৭) নামে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাসেল মিয়া ওই গ্রামের কতুব উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রাসেল মিয়ার কাছে রামনগর গ্রামের সাইদুর রহমানের চার হাজার টাকা পাওনা ছিল। এ টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। অন্যদিকে, রাসেল তার স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, সোমবার দুপুরে সাইদুর রহমান কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে রাসেলকে আটক করেন। পরে তারা একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশকে খবর দেন।

স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সাইদুর রহমান ও তার সহযোগীরা রাসেলকে ব্যাপক মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাসেলকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মা শিল্পী বেগম অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, রাসেলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্ত সাইদুর রহমান, লাল মিয়া ও মামুনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

করিমগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুবীর কুমার সাহা বলেন, ‘পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন রাসেলকে আটক করে মারধর করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

তিনি আরো জানান, মারধরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ময়লার ভাগাড়ে আলোর ঝলকানি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
ময়লার ভাগাড়ে আলোর ঝলকানি
ছবি: কালের কণ্ঠ

বরিশাল সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী ময়লার ভাগাড়ে বসানো হয়েছে ২৮টি এলইডি ফ্লাড লাইট। প্রায় ৪০ ফুট উচ্চতার ছয়টি পুল বসিয়ে দিনের পরিবর্তে রাতে  আবর্জনা ফেলতে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে লাইটগুলো সচল  করা হয়েছে। 

শনিবার (২০ জুন) রাতে একযোগে এলইডি ফ্লাড লাইটগুলো সচল করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাড. বিলকিস জাহান শিরিন। তিনি বলেন,  এই উদ্যোগের ফলে রাতের বেলায় বর্জ্য অপসারণের কাজ এখন আরো নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হবে। 

৩ নম্বর ওয়ার্ডের পুরানপাড়া এলাকায় ২০০৩ সালে ছয় একর জমিতে অস্থায়ী ময়লার ভাগাড় করে বরিশাল সিটি করপোরেশন। এলাকাটিতে রাতে ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকায় বিকেল থেকে ময়লা অপসারণ করতেন বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। রাতের অন্ধকার যেখানে- সেখানে  ময়লা ফেলে আসতে বাধ্য হতেন তারা। 

সমস্যা নিরসনে ভাগাড়ে ২৮টি এলইডি ফ্লাড লাইট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় বরিশাল সিটি করপোরেশন। 

বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ শাখার প্রধান ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ জানান, ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয়টি পুলে ২৮টি এলইডি ফ্লাড লাইট বসানো হয়েছে। রাতে ওই পুরো এলাকায় আলো থাকবে। এ কারণে রাতের বেলায় ময়লা ফেলতে সমস্যা হবে না। 

বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতার শাখা প্রধান ইউসুফ আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২০০ টন ময়লা পুরানপাড়া ময়লার ভাগাড়ে ফেলা হয়। বিকেলে কার্যক্রম শুরু করলেও অনেক রাত পর্যন্ত ময়লা ফেলতে হতো। ১৯টি গাড়ি পর্যায়ক্রমে ময়লা  নিলেও তা কষ্টসাধ্য হয়ে যেত। 

শাখা প্রধান আরো বলেন, এলইডি ফ্লাড লাইট বসানোর কারণে সন্ধ্যায় ময়লা যাওয়া শুরু করলে মধ্যরাতের মধ্যে ময়লা ফেলা হয়ে যাবে। কারণ আগে অন্ধকারে এক গাড়ি ময়লা ফেলতে অনেকটা সময় লেগেছে তো। এখন খুব দ্রুত সময় ময়লা গুলো ফেলা সম্ভব হবে। 

লক্ষ্মীপুর

যুবদল নেতার বাসায় ছোট ভাইয়ের গুলি, ভিডিও ভাইরাল

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
যুবদল নেতার বাসায় ছোট ভাইয়ের গুলি, ভিডিও ভাইরাল
সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে যুবদল নেতা আব্দুস ছাত্তার মজুমদারের বাড়িতে ঢুকে আগ্নোয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার আপন ছোট ভাই সুমন মজুমদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সোমবার (২২ জুন) দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেননি।

২ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, সুমন মজুমদার নামে এক যুবক হাতে পিস্তল নিয়ে ছাত্তার বাড়ির দিকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ছেন। এসময় পেছন দিক থেকে এক নারী তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে তিনি বাড়ির বারান্দায় উঠে জানালার কাঁচ ভাঙচুর করেন এবং উচ্চস্বরে গালাগালও করতে থাকেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাটি রবিবার সকাল ১০টার দিকে রামগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কমরদিয়া এলাকায় ঘটে। ছাত্তার রামগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব এবং জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় তিন জন জানান, দিনের আলোয় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি ছোঁড়ার ঘটনায় পুরো এলাকার মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। ভাইয়ে ভাইয়ে সমস্যা হতেই পারে। এজন্য গুলি ছুঁড়তে হবে? এটা ভয়ানক ঘটনা। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয়রা। তবে এ ঘটনায় যুবদল নেতা আব্দুস ছাত্তার মজুমদার ও হামলাকারী সুমন মজুমদার আত্মগোপনে থাকায় তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

রামগঞ্জ থানার ওসি মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভিডিওসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মায়ের হাত থেকে ছিটকে ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু

কুমিল্লা প্রতিনিধি
মায়ের হাত থেকে ছিটকে ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা নগরীতে রাস্তার দিয়ে হাটার সময় মায়ের হাত থেকে ছিটকে ড্রেনে পড়ে স্মৃতি (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।  সোমবার (২২ জুন) দুপুরে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গতকাল রবিবার রাতে নগরীর ছোটরা পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ এলাকায় ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু স্মৃতি কালিয়াজুড়ি বদরপুর এলাকার বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, নগরীর মফিজাবাদ কলোনিতে শিশুটির মামার বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাসায় ফিরছিল স্মৃতি। জলবদ্ধতায় কারণে রিকশা না পেয়ে হেঁটেই রওয়ানা দেন। ফুটপাত দিয়ে যাওয়ার সময় স্মৃতি মায়ের হাত থেকে ছিটকে জলাবদ্ধ সড়কের ভাঙা স্ল্যাবের ফাঁক দিয়ে ড্রেনে পড়ে যায়। এরপর প্রায় ১৫ মিনিট পর মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কারের কাজ চলছিল। কয়েকটি স্থানে ড্রেনের ঢাকনা খোলা ছিল এবং অনেক স্ল্যাব ভাঙা অবস্থায় ছিল। টানা বৃষ্টির কারণে সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় খোলা ড্রেন ও ভাঙা স্ল্যাব পানির নিচে ঢেকে যায়, ফলে পথচারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘এ ঘটনা অত্যন্ত হৃদয় বিদারক। আমি এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। নগরীর অরক্ষিত সবগুলো স্ল্যাব ঢেকে দেওয়া হবে। শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সাধ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম গিয়েছিল। এটি একটি দুর্ঘটনা।