• ই-পেপার

আশুলিয়ায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্ত পলাতক

চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা, থানায় মামলা

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা, থানায় মামলা
সংগৃহীত ছবি

যশোরের কেশবপুরে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় নেওয়ার সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। 

শনিবার (২০ জুন) উপজেলার চিংড়া পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাসানপুর গ্রামের আশরাফুজ্জামান রুমির একটি মোটরসাইকেল শুক্রবার ভোরে তার বাড়ি থেকে চুরি হয়ে যায়। খবর পেয়ে চিংড়া পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নজরুল ইসলাম গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার চিংড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের (৪০) বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করাসহ তাকে আটক করেন। এ সময় মোটরসাইকেল মালিক ও তার সঙ্গে থাকা একদল যুবক মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোটরসাইকেলটি নেওয়ার জন্য বললেও পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার পর মেরে মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয়। এতে ওই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকসানা খাতুনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া ওই মোটরসাইকেলটি পুনরায় উদ্ধারসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। 

কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকসানা খাতুন বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় চিংড়া পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

বিএনপি জনগণকে আশাহত করেছে : বিরোধীদলীয় উপনেতা

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
বিএনপি জনগণকে আশাহত করেছে : বিরোধীদলীয় উপনেতা
ছবি : কালের কণ্ঠ

বিএনপি জনগণকে আশাহত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের স্থানীয় ডলি রিসোর্টে জামায়াতের ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি। 

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, জামায়াত নেতাকর্মীদের সমাজের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিতে হবে। প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা, সাহসিকতার পরিচয়, আমানতদারি, ত্যাগের মানসিকতা, আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনাকারী, জনকল্যাণে নিজেদের বিলিয়ে দেওয়া ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় আপসহীন থাকতে হবে। 

ডা. তাহের বলেন, চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণসহ শিক্ষার মান উন্নয়ন, বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ ও মেরামত, ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নতুন ভবন নির্মাণসহ আইন-শৃঙ্খলা উন্নতির বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়া সুন্দর চৌদ্দগ্রাম গঠনে মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সবাইকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে। 

জামায়াতের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আমির মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সেক্রেটারি বেলাল হোসাইনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভুঁইয়া, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য অধ্যক্ষ ড. শফিকুল আলম হেলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘বর্ষা আইলেই ভয়, কখন বসতভিটা ভাইঙ্গা লয় নদী’

সাইমুন রহমান এলিট, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
‘বর্ষা আইলেই ভয়, কখন বসতভিটা ভাইঙ্গা লয় নদী’
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ভাঙন শুরু হয়েছে তেঁতুলিয়া নদীতে। তাই বসতভিটা হারানো ভয় তাড়া করছে পটুয়াখালীর গলাচিপার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের নিজহাওলা গ্রামের বাসিন্দা বারেক রাঢ়ীকে। শনিবার সকালে তার বাড়ির পাশে নদীর পাড়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘প্রতিবছরই বেড়িবাঁধের কাজ হয়; আবার বর্ষা আইলেই ভাঙে, বাড়িঘর ভাঙে। এহন সব সহ্য হয়ে গেছে। তয় বর্ষায় মৌসুমজুড়ে মনের মধ্যে ভয় করে, কখন বসতভিটা নদীতে হারায়ে যায়। সাথে চইলা যায় বাপ-দাদার কবরও।’

কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর গলাচিপার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের নিজহাওলা গ্রামের বাসিন্দা বারেক রাঢ়ী। তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে দিশাহারা এই প্রবীণ আরো বলেন, ‘১০ বছরে চারবার বাড়ি করেছি। এখন যে বাড়ি সেটাও হয়তো থাকবে না। এহন সব সহ্য হয়ে গেছে। তবে মরার আগে আর নতুন বাড়ি করতে পারমু না। শক্তি ও অর্থ কোনোটাই নাই।’ 

শুধু বারেক রাঢ়ী নন, তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটছে ৫০০ পরিবারের। এ নদীর করাল গ্রাসে হারিয়ে গেছে বহু বাড়িঘর, সঙ্গে কবরস্থানও। তাই জীবনের শেষ মূহূর্তে এসে চরম হতাশা বারেকের মতো মানুষদের।

বেড়িবাঁধ ভাঙনের আতঙ্কে রয়েছেন রতনদী তালতলী ইউনিয়নের নিজহাওলা, বন্যাতলী স্লুইসের উত্তর ও দক্ষিণ পাশ, গ্রামর্দনের চার গ্রামের বাসিন্দারা। 

এদিকে ঢেউয়ের তোড়ে ওই এলাকার বেড়িবাঁধের পাড় ভেঙে ধসে পড়ছে। বন্যাতলী লঞ্চঘাটের উত্তর পাশের বেড়িবাঁধের অন্তত ৫০০ মিটার সড়ক ধসে গেছে। 

রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী লঞ্চঘাটের উত্তর পাশের বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার বলেন, ‘নদীভাঙনে আমাগো সব হারাইছি। চার চারবার করে বাড়ি করেও সর্বস্ব হারাইছি। এখন কোনোভাবে জীবিকা নির্বাহ করছি। বেড়িবাঁধ দেওয়ার পরও প্রায় সাড়ে আট একর জমি নদীতে হারিয়ে গেছে।’

শাহজাহানের ভাষ্য, ‘এখন আর এসব বেড়িবাঁধ দিয়ে কিছুই হবে না, আমাদের টেকসই বাঁধ চাই। ব্লক দিয়ে বাঁধ দেওয়া দরকার। বারবার ভাঙা আর গড়ার খেলায় আমি এখন পুরোটাই নিঃস্ব।’

একই ইউনিয়নের গ্রামর্দন এলাকার ফরিদ হাওলাদার বলেন, ‘আমার ঘরসহ সব কেড়ে নিছে সর্বনাশা তেঁতুলিয়া। কয়েক দফা ভাঙনের পর ১২ বছর আগে পরিবার-পরিজন নিয়ে একই ইউনিয়নের কাটাখালী শ্বশুরবাড়িতে থাকি।’ তিনি বলেন, ‘আমি আমার চোখেই ২০০ থেকে আড়াই শ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে দেখেছি। নদীর উত্তাল ঢেউয়ে বেড়িবাঁধের পাড় প্রতিদিন ভেঙে যাচ্ছে। এখন রাস্তাও ভাঙছে।’

নিজহাওলা গ্রামের সত্তার রাঢ়ীর স্ত্রী লুৎফা বেগম বলেন, ‘আমার বাপের বাড়ি একই ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া গ্রামে। বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়িতেই আছি। এক সময় যে বাড়ি থেকে গাছের ডালপালা পাতা কুড়ায়ে রান্নাবান্না করতাম, অনেক আগেই নদীগর্ভে হারায়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী একসময় এখানে ফসল ফলাতেন, জমিতে চাষাবাদ করতেন। এহন সব কিছুই স্মৃতি। এই নদীর ভাঙনে ৫০ একরের ওপর জমি নদীতে ভেঙে গেছে। এহন আমরা নিঃস্ব।’

রতনদী তালতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা খান বলেন, রতনদি তালতলী ইউনিয়নের ৮, ৯ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বন্যাতলী অংশের বেড়িবাঁধ এলাকা ভাঙনকবলিত। এখানে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। তেমনি গ্রামর্দন অংশেরও একই অবস্থা। 

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভাঙনে প্রতিবছর  নদীরগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বেড়িবাঁধ, সড়ক, কৃষিজমি ও ঘরবাড়ি। ভাঙন প্রতিরোধ ও ওয়াপদা মেরামত করা না হলে বন্যাতলী, নিজহাওলা, টাইট্টাবুনিয়া, ভাইয়ার হাওলা, পাতাবুনিয়া,গ্রামর্দ্দন এলাকার মানুষের অপূরণীয়  ক্ষতি হবে। তাই নদীভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ আশা করছি।’

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  আবুজর মো. ইজাজুর হক বলেন, ‘ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেছি। তারা জানান রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী লঞ্চঘাটের উত্তর পাশের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ রক্ষায় ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। বর্ষা মৌসুমের তীব্রতার আগেই কাজ শুরু হবে।’

এমপি রায়হান সিরাজী

বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা হয়নি, যা হতাশাজনক

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা হয়নি, যা হতাশাজনক
ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্যসচিব রায়হান সিরাজী বলেছেন, প্রতিবছর তিস্তা নদীর ভাঙনে শত শত পরিবার বাড়িঘর ও জমিজমা হারালেও চলতি বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি, যা তিস্তাপাড়ের মানুষের জন্য হতাশাজনক।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে শনিবার (২০ জুন) সকাল ১১টায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর দক্ষিণ পার্শ্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে করা মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

এমপি রায়হান সিরাজী বলেন, ‘আমরা আন্দোলনের কৃতিত্ব নিতে চাই না। সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আনন্দ মিছিল করব।’ 

সিরাজী বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আন্দোলনের মহানায়ক আসাদুল হাবিব দুলু এখন মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। তার নেতৃত্বে ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছি। তাই এখনো আমরা আশাবাদী।” 

মানববন্ধনে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির সিনিয়র সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল গণি, অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, মাওলানা নায়েবুজ্জামান, মাওলানা তাজ উদ্দিন, মাওলানা মমিনুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু তিস্তা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন করেন। সে সময় তারা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।