• ই-পেপার

মুরাদনগরে মসজিদে নামাজরত অবস্থায় বৃদ্ধের মৃত্যু

রাজবাড়ীতে কমল মুরগির দাম

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ীতে কমল মুরগির দাম
ছবি: কালের কণ্ঠ

রাজবাড়ীতে সব ধরনের মুরগির বাজার দর কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহের শুরু থেকে মুরগির বাজার দর ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। নিম্নআয়ের মানুষের চাহিদার ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত এক সপ্তাহ আগে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য মুরগি সোনালী, লেয়ার, কক,পাকিস্তানি মুরগির কেজিতে ৩০ টাকা কমে বর্তমানে তিন শ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহ আগে একই মুরগি  ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। বাজারে সরবরাহ ও অতিরিক্ত গরমে মুরগির বাজার দর কিছুটা কমেছে। দেশি মুরগি ৬২০ থেকে ৬৫০ টাকা  ও হাঁস  বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে মুরগির বাজার দর কমেছে। প্রকার ভেদে সব ধরনের মুরগির কেজিতে ২০/৩০ টাকা কমেছে। দেশী মুরগি ও হাঁসের কেজি অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাবুগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা রাফিন গ্রেপ্তার

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
বাবুগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা রাফিন গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. রাফিন তালুকদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ছাতিয়া গ্রামে নিজবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পারিবার সূত্রে জানা যায়, রাফিন তালুকদার উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছাতিয়া গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদারের ছেলে এবং সরকারি বরিশাল কলেজের ডিগ্রির শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন।

গ্রেপ্তারের পরিবারের দাবি, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকা সত্ত্বেও তাকে হয়রানিমূলকভাবে আটক করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এয়ারপোর্ট থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার হওয়া রাফিন তালুকদার বাবুগঞ্জ উপজেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তবে তাকে কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে চাননি তিনি।

একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে জনগণ হিমালয়ের মতো প্রতিরোধ গড়ে তুলবে : ডা. শফিকুর রহমান

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে জনগণ হিমালয়ের মতো প্রতিরোধ গড়ে তুলবে : ডা. শফিকুর রহমান
ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার যেকোনো চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে জোরপূর্বক একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হলে জনগণই তার বিরুদ্ধে হিমালয়ের মতো প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং শহীদদের আত্মত্যাগের ফলেই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গুদের অবদানকে অবমূল্যায়ন বা উপহাস করা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। তাদের ত্যাগকে কখনোই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন ও গণভোটে জনগণের রায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। জনগণের মতামতকে সম্মান জানিয়ে গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা জনগণের রায়কে সম্মান করে না, তারা প্রকৃত গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হতে পারে না।

সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ থেকে শুরু করে ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকদের বসিয়ে একদলীয় শাসনের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, একদলীয় শাসন কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।

তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার রাজনৈতিক সংস্কৃতি অতীতে আওয়ামী লীগ চালু করেছিল। এখন সেই একই ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণ তা গ্রহণ করবে না। তরুণ প্রজন্ম বিভাজনের রাজনীতি নয়, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব দেখতে চায়।

বাজেট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বড় বাজেট প্রণয়ন করা সরকারের দায়িত্ব, তবে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে যেভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট হয়েছে, সেই পথ থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব হবে না।

নারায়ণগঞ্জের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একসময় নারায়ণগঞ্জ ছিল দেশের শিল্পনগরী। কিন্তু নানা কারণে সেই গৌরব ক্ষুণ্ণ হয়েছে। শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে এনে নারায়ণগঞ্জকে আবারও তার হারানো অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিভিন্ন সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি বলেন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। জনগণ এখন অনেক সচেতন। তারা কথার চেয়ে কাজের মূল্যায়ন করে এবং দেশের স্বার্থে সৎ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতি প্রত্যাশা করে।

যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজকন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় রিনা খাতুন (২২) নামের এক গৃহবধূকে তার স্বামী তালাক দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তালাকই নয়, যমজ কন্যাসন্তান বিক্রির টাকা দিয়ে দেনমোহরের (কাবিননামা) দাবি পরিশোধ করার জন্য ওই গৃহবধূ ও তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কাজিরবের ইউপির নতুন কোলা গ্রামে এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় রিনা স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও যৌতুক চাওয়ার অভিযোগে বিচারের দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী রিনা খাতুন নতুন কোলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী ও পার্শ্ববর্তী পুরাতন কোলা গ্রামের মৃত পীর বক্সের মেয়ে।

ভুক্তভোগী রিনা খাতুন ও তার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে রাকিবুলের সঙ্গে রিনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসার ভালোই চলছিল। তবে বিপত্তি ঘটে রিনা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর। তার গর্ভধারণের ছয় মাস পূর্ণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। রিপোর্টে গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই স্বামী রাকিবুল ও তার পরিবারের সদস্যরা তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। একপর্যায়ে জোরপূর্বক তাকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং এরপর থেকে স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কেউ তার কোনো খোঁজ নেননি।

পরবর্তীতে বাবার বাড়িতে থেকেই অস্ত্রোপচারের (সিজার) মাধ্যমে ফুটফুটে দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন রিনা। বর্তমানে শিশুদের বয়স দেড় মাস পার হয়ে গেলেও স্বামী রাকিবুল কিংবা তার পরিবারের কেউ সন্তানদের দেখতে আসেননি, এমনকি তাদের ভরণপোষণের কোনো দায়িত্বও নেননি।

রিনা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া নাকি আমার অপরাধ। এই অপরাধে আমাকে নির্যাতন করে তালাক দেওয়া হয়েছে। এখন আমার স্বামী বলছে, যমজ সন্তান বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে নাকি আমার কাবিননামার টাকা শোধ করবে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুহু বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দুই দফা সালিশ-বৈঠক বসেছিল। রাকিবুল ও তার পরিবার কন্যাসন্তানদের ও রিনাকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কোনো সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব হয়নি।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে নতুন কোলা গ্রামে রাকিবুল ইসলামের বাড়িতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকেই পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে স্বামী রাকিবুল ও তার বাবা শহিদুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সামাজিক অবক্ষয়ের চরম বহিঃপ্রকাশ। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।