• ই-পেপার

জমি লিখে নিয়ে বাবাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

  • থানায় লিখিত অভিযোগ

মোটরসাইকেল নিয়ে দ্বন্দ্বে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
মোটরসাইকেল নিয়ে দ্বন্দ্বে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন
বামে লাল টিশার্ট পড়া অভিযুক্ত মোহাম্মদ রাকিব শাহরিয়ার ও ডানে মৃত সাকিব শাহরিয়ার। ছবি : সংগৃহীত

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মোটরসাইকেল নিয়ে দ্বন্দ্বে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলা পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাগুরা গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 

গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত ব্যক্তির নাম সাকিব শাহরিয়ার (২২)। অভিযুক্তের নাম মোহাম্মদ রাকিব শাহরিয়ার (১৮)। তারা ওই গ্রামের এরশাদুল হকের ছেলে ও গোবিন্দগঞ্জ বন্দরের পরিচিত শিল্পী লাইব্রেরির মালিক জিয়ার নাতি। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাতে নিজেদের বাড়িতে মোটরসাইকেল চালানো ও সেটি কার কাছে থাকবে এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে ছোট ভাই রাকিব উত্তেজিত হয়ে বড় ভাই সাকিবকে ছুরিকাঘাত করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সাকিবকে পরিবারের লোকজন প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে অবস্থা তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে থাকা গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশও কাজ করছে। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত গা ঢাকা দিয়েছেন।

সিংড়ায় অধ্যক্ষের অর্থায়নে ইউনিফর্ম উপহার পেল শিক্ষার্থীরা

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
সিংড়ায় অধ্যক্ষের অর্থায়নে ইউনিফর্ম উপহার পেল শিক্ষার্থীরা
শিক্ষার্থীদেরকে স্কুল ইউনিফর্ম গাছ উপহার দিচ্ছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার বাহাদুরপুর কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শেখ মো. রকিবুল ইসলাম।

সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো তহবিল ছাড়াই সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদেরকে স্কুল ইউনিফর্ম উপহার দিয়েছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার বাহাদুরপুর কারিগরি স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শেখ মো. রকিবুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বাহাদুরপুর কারিগরি স্কুল এ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে এই পোশাক তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়েছে।

অধ্যক্ষ শেখ মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আজকের এই আয়োজন আমার শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো করুণা নয়, তাদের অধিকার নিশ্চিত করার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস। একটি উন্নয়নকামী ও সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণে এবং ‘সবার জন্য মানসম্মত ও বৈষম্যহীন শিক্ষা’ নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার বিকল্প নেই। অর্থাভাব যেন কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনের প্রতিবন্ধক না হয় এবং পোশাকি বৈষম্য ভুলে প্রতিটি সন্তান যেন একই সমান্তরালে দাঁড়িয়ে শিক্ষার আলো গ্রহণ করতে পারে, সেই তাগিদ থেকেই আমার এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ।’

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভিপি ও এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ রিফাদ মাহমুদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চামারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মো. রাশিদুল ইসলাম, ‘চামারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আল আমিন মৃধা (সাজু), ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ রানা প্রমুখ।’

বীরগঞ্জে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ গেল আরোহীর

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
বীরগঞ্জে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ গেল আরোহীর
সংগৃহীত ছবি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মো. আবু জাফর আল মুনছুর (৪৩) নামের এক আরোহী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের কবিরাজহাট ছোট বটতলী এলাকায় ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবু জাফর আল মুনছুর রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার রাজশাহী চিনিকল এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও থেকে দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে মোটরসাইকেলে রওনা হন আবু জাফর আল মুনছুর। পথে বীরগঞ্জ উপজেলার ছোট বটতলী এলাকায় হোসেন ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় ২০০ গজ সামনে পৌঁছালে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ ও অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

আকাশে মেঘ দেখলেই ভয়

ভারি বর্ষণে ফের ডুবল খুলনা শহর

খুলনা অফিস
ভারি বর্ষণে ফের ডুবল খুলনা শহর
ছবি: কালের কণ্ঠ

‘শহরে বাস করেও আকাশে মেঘ দেখলে এখন ভয় করে। একটু ভারী বৃষ্টি হলে রাস্তাতো ডুববেই, ঘরে পানি ঢুকে যাচ্ছে। ফার্নিচার, ইলেকট্রিক জিনিস-পত্র সব নষ্ট হচ্ছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবার ডুবতে হলো।’ এভাবে নিজের কষ্টের কথা বলছিলেন নগরীর বাগমারা এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান।

শুধু মোস্তাফিজুর রহমানই নয়, খুলনায় মেঘ দেখলেই আতংকে ভুগছেন রূপসা, মুজগুন্নি, টুটপাড়া, বানিয়াখামার, নিরালা আবাসিক, সোনাডাঙা আবাসিক, শিপইয়ার্ড, নতুন বাজারসহ খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানার নিচু এলাকার বাসিন্দারা।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার প্রায় সাড়ে তিনঘন্টার ব্যবধানে ফের ডুবেছে মহানগরী খুলনা। বৃষ্টিতে রয়েল মোড়, শান্তিধাম মোড়, পিটিআই মোড়, পিকচার প্যালেস, সিমেট্রি রোড, স্যার ইকবাল রোড, টিবি বাউন্ডারি রোড, দোলখোলাসহ প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি, ব্যবসা প্রতিপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়িতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। অনেক স্থানে ইজিবাইক, রিকশা, মাহেন্দ্র, সিএনজি, মোটরসাইকেল বিকল হয়ে পড়ে। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে এই জলাবদ্ধতায় বিপাকের পড়েন কর্মজীবী মানুষও। আকষ্মিক রিকশা, ইজিবাইক ও যানবাহনের কয়েকগুন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন।

00

বেসরকারি খুলনা ওয়েদার ফোরকাস্ট টিম (কেডব্লিউএফটি)’র তথ্য অনুযায়ী খুলনায় দুই ঘন্টায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের তথ্য দিয়েছে। টিম জানিয়েছে, রেইন গেজেট অনুযায়ী খুলনায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে নগরীর প্রধান সড়কসহ বিভিন্নস্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্থায়ী উন্নয়নে ৮২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি মেগা প্রকল্প শেষ হওয়ার পথে। এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১৫৮ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কার

এবং ময়ূর নদসহ গুরুত্বপূর্ণ ১২টি খালের পুনঃখনন ও সংস্কার করার বিষয় ছিল। চলতি বছরেই প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে জলাবদ্ধতার কোন পরিবর্তন হয়নি।

খুলনা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলে নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশন ৮২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। অপরিকল্পিত উন্নয়ন, সমন্বয়হীনতা, নদী-খাল দখলের জন্য পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। ফলে মেঘ দেখলে মানুষের আতংক তৈরি হচ্ছে।’

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘করপোরেশন জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিরামহীন কাজ করছে। বিগত সময়ে ড্রেনগুলো নষ্ট করা হয়েছে। পাম্প হাউজ, স্লুইজগেটগুলো কাজ করছে না। এ জন্য নগরীর পানি নামতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিনই রেডিমাটি অপসারণ, বর্জ্য নিষ্কাষণে কাজ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার নগরীর ১৭, ১৮ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন ও এসব কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন সিটি প্রশাসক।’