• ই-পেপার

আটঘরিয়ায় ছাদে পানি নিষ্কাশনের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

রায়পুরায় আরো এক প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার, নিহত বেড়ে ৩

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
রায়পুরায় আরো এক প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার, নিহত বেড়ে ৩
প্রতীকী ছবি

নরসিংদীর রায়পুরায় দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় নিখোঁজ থাকার দুদিন পর আব্দুল লতিফ (৩৫) নামে এক প্রবাসীর মরদেহ মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনজনে। এখনো বুলবুল নামে আরো একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের গোবিনাথপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আব্দুল লতিফ নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে। তিনি ছয় মাস আগে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির অনুসারীদের মধ্যে গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর থেকেই আব্দুল লতিফ নিখোঁজ ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে গোবিনাথপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এলাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বার। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে তারা স্পিডবোটযোগে নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করেন। এ সময় ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের সহযোগিতায় নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জবাবে নাজিম উদ্দিনের অনুসারীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে উভয়পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র এবং বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ব্যবহার করেছে। ভোর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নাজিম উদ্দিনের সমর্থক অনিক (২০) নিহত হন।

জানা গেছে,  সংঘর্ষের পর থেকেই আলাল মুন্সির সমর্থক বুলবুল, কাউছার মিয়া ও আব্দুল লতিফ নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনার একদিন পর বুধবার দুপুরে নরসিংদীর মাধবদীর জিৎরামপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ কাউছার মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আজ বৃহস্পতিবার গোবিনাথপুর এলাকা থেকে আব্দুল লতিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় এখনো বুলবুল নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, গোবিনাথপুরে রফিক মেম্বারের বাড়ির সামনে মেঘনা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, অনিক হত্যার ঘটনায় নিহতের মা ৩০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

পটিয়া

পঙ্কজ হত্যা মামলা : মালয়েশিয়া পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার প্রধান আসামি

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
পঙ্কজ হত্যা মামলা : মালয়েশিয়া পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার প্রধান আসামি
সংগৃহীত ছবি

 

চট্টগ্রামের পটিয়ার আলোচিত পঙ্কজ শীল (৩২) হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবদুর রহমান ও ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা বোরকা পরিহিত এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হত্যার পর থেকেই আত্মগোপনে থাকা আবদুর রহমান দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থান পরিবর্তন করে সবশেষ কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় পৌঁছেছিলেন। সেখান থেকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। বুধবার (১৭ জুন) গভীর রাতে পটিয়া থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি যৌথ অভিযান টেকনাফে পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনাবাদ পূর্ব এলাহাবাদ এলাকা থেকে ফাতেমা বেগম (১৯) নামে এক নারীকে আটক করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে ওই নারী উপস্থিত ছিলেন এবং ঘটনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন।

পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা এলাকায় গত ৯ জুন রাত ৯টার দিকে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মৃত্যুবরণ করেন মিলন শীলের ছেলে পঙ্কজ শীল। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিলক চক্রবর্তী (৩০)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে, স্থানীয়রা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই আমরা প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছিলাম। আসামি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। শেষ পর্যন্ত টেকনাফে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক বলেন, ‘পঙ্কজ শীল হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ, পরিকল্পনা ও অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’

নিহত পঙ্কজ শীলের মা ঝিনু শ্রী শীল বলেন, ‘আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা বিচার চাই। যারা এই হত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

লাকসামে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
লাকসামে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার লাকসামে মাদক মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. দেলোয়ার হোসেন (৪১) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার যুবক উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের ইরুয়াইন গ্রামের  মো রুহুল আমিনের ছেলে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে তাকে কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী  কামরুন্নাহার লাইলী ওই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানোর বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

লাকসাম থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার মো. দেলোয়ার হোসেন ২০২২ সালের একটি মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। দীর্ঘ বছর ধরে ওই যুবক পালিয়ে থাকার পর অবশেষে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টায় পৌরশহরের দৌলতগঞ্জ বাজারের ব্যাংক রোড থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

এই ব্যাপারে লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, যুবককে কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। এ ক্ষেত্রে পুলিশ জিরো টলারেন্স ঘোষণা রয়েছে।

পাহাড়ের মাটি কাটতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
পাহাড়ের মাটি কাটতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু
ছবি: কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পাহাড়ের মাটি কাটতে গিয়ে মো. সায়েম (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সোহেল রানা নামে আরও এক কিশোর আহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়নের ঘেড়ামারা গ্রামের বড়থলি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সায়েম ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজপানুয়া গ্রামের মৃত বশর আহমেদের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে সায়েম টিলার পাদদেশে একটি জায়গা ক্রয় করে। সেখানে বসতভিটার মাটি ভরাটের জন্য কয়েকদিন ধরে ঘরের পাশের টিলা থেকে নিজেই মাটি কাটছিল। বুধবার রাতেও মাটি কাটার সময় হঠাৎ টিলার একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। এতে সায়েম ও তার পাশে থাকা সোহেল রানা মাটির নিচে চাপা পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় লোকজন প্রায় ৩০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সায়েমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সোহেল রানা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

নিহতের মা ছালেহা বেগম বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর অনেক কষ্টে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করেছিলাম। কিন্তু একমাত্র ছেলেকেও হারিয়ে এখন আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এর আগেই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়, সায়েম নামে এক কিশোর মারা গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।