• ই-পেপার

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

অসুস্থ মাকে দেখতে বাড়ি ফেরার পথে ছেলের মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
অসুস্থ মাকে দেখতে বাড়ি ফেরার পথে ছেলের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

অসুস্থ মাকে দেখতে ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গায় ফিরছিলেন প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দীন খান (৩৮)। তবে মায়ের সঙ্গে শেষ দেখাও আর হয়নি। বাড়ি পৌঁছানোর আগেই দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডের একটি পাবলিক টয়লেটে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি পাবলিক টয়লেট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ। 

নিহত ফরিদ উদ্দীন খান দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ ইউনিয়নের চারুলিয়া গ্রামের খানপাড়ার মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদের মা কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মাকে দেখতে বুধবার রাতে ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর হঠাৎ পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে পাশের একটি পাবলিক টয়লেটে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও বাইরে না আসায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম জানান, ফরিদ উদ্দীন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি নিজেও শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থ মাকে দেখতে বাড়িতে আসার পথে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডের পাবলিক টয়লেটের ভেতরে অসুস্থ হয়ে মারা যান।

দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে স্ট্রোকজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবে সরকার

রুপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবে সরকার
ছবি: কালের কণ্ঠ

বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি করবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলার ইছাপুরা ও নগরপাড়া বালু সেতু পরিদর্শন উপলক্ষে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।  

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তিনি চান সারা বাংলাদেশের যেন উন্নয়ন হয়। 

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, কায়েতপাড়া ও নগরপাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ইছাপুরা ও নগরপাড়া বালু সেতু। ‎একটি মহল এই সেতুর কাজটি বন্ধ করে রেখেছেন, যাতে করে রূপগঞ্জের উন্নয়ন না হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু বলেন, সেতু দুটি চালু হলে এলাকার হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, সময়ের সঙ্গে ব্যয়ও কমবে। পাশাপাশি কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে রূপগঞ্জে আমরা অল্প সময়ে আসতে পারব। জনগণ এই সেতু ব্যবহার করে ঢাকা থেকে সিলেট যাবে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, বাশিরউদ্দিন বাচ্চু, অ্যাডভোকেট গোলজার হোসেনসহ আরো অনেকে। 

রায়পুরায় আরো এক প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার, নিহত বেড়ে ৩

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
রায়পুরায় আরো এক প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার, নিহত বেড়ে ৩
প্রতীকী ছবি

নরসিংদীর রায়পুরায় দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় নিখোঁজ থাকার দুদিন পর আব্দুল লতিফ (৩৫) নামে এক প্রবাসীর মরদেহ মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনজনে। এখনো বুলবুল নামে আরো একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের গোবিনাথপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আব্দুল লতিফ নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে। তিনি ছয় মাস আগে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির অনুসারীদের মধ্যে গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর থেকেই আব্দুল লতিফ নিখোঁজ ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে গোবিনাথপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এলাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বার। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে তারা স্পিডবোটযোগে নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করেন। এ সময় ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের সহযোগিতায় নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জবাবে নাজিম উদ্দিনের অনুসারীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে উভয়পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র এবং বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ব্যবহার করেছে। ভোর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নাজিম উদ্দিনের সমর্থক অনিক (২০) নিহত হন।

জানা গেছে,  সংঘর্ষের পর থেকেই আলাল মুন্সির সমর্থক বুলবুল, কাউছার মিয়া ও আব্দুল লতিফ নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনার একদিন পর বুধবার দুপুরে নরসিংদীর মাধবদীর জিৎরামপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ কাউছার মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আজ বৃহস্পতিবার গোবিনাথপুর এলাকা থেকে আব্দুল লতিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় এখনো বুলবুল নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, গোবিনাথপুরে রফিক মেম্বারের বাড়ির সামনে মেঘনা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, অনিক হত্যার ঘটনায় নিহতের মা ৩০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

পটিয়া

পঙ্কজ হত্যা মামলা : মালয়েশিয়া পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার প্রধান আসামি

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
পঙ্কজ হত্যা মামলা : মালয়েশিয়া পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার প্রধান আসামি
সংগৃহীত ছবি

 

চট্টগ্রামের পটিয়ার আলোচিত পঙ্কজ শীল (৩২) হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবদুর রহমান ও ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা বোরকা পরিহিত এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হত্যার পর থেকেই আত্মগোপনে থাকা আবদুর রহমান দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থান পরিবর্তন করে সবশেষ কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় পৌঁছেছিলেন। সেখান থেকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। বুধবার (১৭ জুন) গভীর রাতে পটিয়া থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি যৌথ অভিযান টেকনাফে পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনাবাদ পূর্ব এলাহাবাদ এলাকা থেকে ফাতেমা বেগম (১৯) নামে এক নারীকে আটক করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে ওই নারী উপস্থিত ছিলেন এবং ঘটনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন।

পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা এলাকায় গত ৯ জুন রাত ৯টার দিকে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মৃত্যুবরণ করেন মিলন শীলের ছেলে পঙ্কজ শীল। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিলক চক্রবর্তী (৩০)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে, স্থানীয়রা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই আমরা প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছিলাম। আসামি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। শেষ পর্যন্ত টেকনাফে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক বলেন, ‘পঙ্কজ শীল হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ, পরিকল্পনা ও অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’

নিহত পঙ্কজ শীলের মা ঝিনু শ্রী শীল বলেন, ‘আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা বিচার চাই। যারা এই হত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’