• ই-পেপার

‘আমার বাবা একাত্তরের যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন, মরদেহ খুঁজে পাইনি’

কুমিল্লায় চর দখল নিয়ে ২ উপজেলার বাসিন্দাদের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০

মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লায় চর দখল নিয়ে ২ উপজেলার বাসিন্দাদের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার মেঘনা ও তিতাস উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি চর দখলকে কেন্দ্র করে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে মেঘনা উপজেলার চর বিনোদনপুর গ্রামের পূর্ব পাশে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯০ সালে জেলা প্রশাসন মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের ২৩টি দলিলের মাধ্যমে ১৪ দশমিক ৭৫ একর জমি লিজ দেয়। পরে ১৯৯৯ সালে তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের নতুন বাটেরা এলাকার বাসিন্দাদের ১০ দশমিক ১৪ একর জমি লিজ দেওয়া হয়। এর পর থেকে নতুন বাটেরা এলাকার লোকজন জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন।

সম্প্রতি আলীপুর গ্রামের লোকজন ওই জমির দখল নিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা, হকিস্টিক, রামদা এবং ইট-পাটকেল ব্যবহার করে। এতে অনেকের হাত, পা ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন ফারুক, আনোয়ার হোসেন, রাজ্জাক, বাছির, জাহাঙ্গীর আলম, রবি মোল্লা, সাগর, সালাউদ্দিন ও শাহজাহানসহ প্রায় ৩০ জন। আহতদের মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, বিরোধপূর্ণ জমিটি বাটেরা মৌজার অন্তর্ভুক্ত। সিএস ও এসএ রেকর্ডে আলীপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার নাম থাকলেও বিএস রেকর্ডে জমিটি সরকারি খাসজমি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।

স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষে মেঘনা উপজেলার পক্ষে নেতৃত্ব দেন কামরুজ্জামান, হাবিবুল্লাহ মেম্বার, শাহজাহান মেম্বার, রবিউল্লাহ ও জহির। অন্যদিকে তিতাস উপজেলার পক্ষে নেতৃত্ব দেন লিটন, শাহ আলম মেম্বার, ছাইদুল মেম্বার ও আবদুর রব।

মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’

গাইবান্ধায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে নারীর ‘আত্মহনন’

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে নারীর ‘আত্মহনন’
সংগৃহীত ছবি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে লিপি বেগম (৪৫) নামের এক নারীর আত্মহননের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার মহিমাগঞ্জের দেওয়ানতলা ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত লিপি বেগম উপজেলার কুনতাড়াই ইউনিয়নের ভেড়ামারা গ্রামের জিল্লুর রহমানের স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বগুড়ার সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা পদ্মরাগ ট্রেনটি মহিমাগঞ্জের দেওয়ানতলা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে লিপি বেগম চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুন হাসান বলেন, ‘ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করা ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। এর আগে তিনি বেশ কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।’

বিজয় এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন, চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
বিজয় এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন, চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ
ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটি ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে আঠারবাড়ী স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় জামালপুরগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকতার হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি আঠারবাড়ী স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় আসা মাত্র হঠাৎ ইঞ্জিনে আগুন থেকে ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এতে ইঞ্জিনটি বিকল হয়ে যায়। খবর পেয়ে বিকল্প ইঞ্জিন পাঠানো হয়েছে। আশা করি, অল্প সময়ের মধ্যে বিকল্প ইঞ্জিনে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি ময়মনসিংহে আনা হবে।

এর আগে একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার শহীদনগর পশ্চিম গোলাবাড়ী বাজার এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনের হুক ছিঁড়ে যায়। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে ট্রেনের হুক লাগিয়ে ময়মনসিংহের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। এতে দুই ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।

রংপুর

হাঁড়িভাঙার বাজারজাত শুরু, চাষিরা চান কোল্ড স্টোরেজ

রংপুর অফিস
হাঁড়িভাঙার বাজারজাত শুরু, চাষিরা চান কোল্ড স্টোরেজ
সোমবার দুপুরে হাঁড়িভাঙা আম বাজারজাত করার কাজ উদ্বোধন করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক রুহুল আমীন। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাজারে আসছে রংপুরের হাঁড়িভাঙা আম। রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীন সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকায় একটি বাগানে গাছ থেকে আম সংগ্রহ করে বাজারজাত করার কাজ উদ্বোধন করেন। 

পরে হাঁড়িভাঙা আমের প্রধান বিপণন কেন্দ্র পদাগঞ্জ হাট পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এর আগে পদাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাঁড়িভাঙা আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক। 

এদিকে আম ঘিরে কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হলেও দীর্ঘদিনের কিছু মৌলিক সমস্যার সমাধান না হওয়ায় হতাশ চাষিরা।

চাষিরা জানান, আম উৎপাদন এলাকায় সড়ক উন্নয়ন, আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং স্থানীয়ভাবে ব্যাংকের শাখা স্থাপনের জন্য বছরের পর বছর দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে উৎপাদন বাড়লেও ন্যায্যমূল্য ও বাজার ব্যবস্থাপনায় নানা সংকটে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, রংপুরের মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জসহ এই অঞ্চলে এ বছর দুই হাজার ৫৬৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪০-৪১ হাজার মেট্রিক টন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় ধান ও প্রচলিত ফসলের ওপর নির্ভরশীল ছিল মিঠাপুকুরসহ এই অঞ্চলের মানুষ। তবে, হাঁড়িভাঙা আমের বাণিজ্যিক চাষ জনপ্রিয় হওয়ার পর বদলাতে শুরু করে স্থানীয় অর্থনীতি।

পদাগঞ্জের আম চাষি আ. আজিজ জানান, হাজার হাজার কৃষক আম চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে। নতুন বাগান গড়ে উঠেছে। মৌসুমে হাজার হাজার শ্রমিক বাগান পরিচর্যা, আম সংগ্রহ, বাছাই, প্যাকেজিং ও পরিবহনের কাজে যুক্ত হন। পরিবহন, ঝুড়ি ও কার্টন ব্যবসা, আড়ত এবং খুচরা বাজারেও সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থান।

তবে, কৃষকদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে। অনেক বাগান এলাকায় এখনো কাঁচা বা ভাঙাচোরা সড়ক। মৌসুমে ট্রাক ও পিকআপ চলাচলে সমস্যা হয়। বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ আরো বাড়ে।

কৃষকদের ভাষ্য, ভালো সড়ক না থাকায় তাদের পরিবহন খরচ বাড়ে এবং অনেক সময় দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হয় না। এতে আমের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

স্থানীয় চাষি নজিবুল ইসলামের দাবি, উৎপাদন এলাকা থেকে মহাসড়ক পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন করা গেলে পরিবহন ব্যয় কমবে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত আম সরবরাহ করা সম্ভব হবে। হাঁড়িভাঙা আম একটি মৌসুমি ফল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিক্রি করতে না পারলে কৃষকদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। কিন্তু উৎপাদন এলাকায় এখনো আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ না থাকায় চাষিরা আম সংরক্ষণের সুযোগ পান না।

আরেক আম চাষি হামিদুর রহমান বলেন, বাজারে দাম কমে গেলে আম ধরে রাখার কোনো উপায় থাকে না। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়। একটি আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হলে বাজার নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হবে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেতে পারেন।

হাঁড়িভাঙা উৎপাদন এলাকায় বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হলেও স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত ব্যাংকিং সুবিধা নেই বলে অভিযোগ কৃষকদের। তাদের মতে, মৌসুমে কোটি কোটি টাকার বেচাকেনা হয়। কিন্তু ব্যাংকের শাখা ও সহজ আর্থিক সেবা না থাকায় অনেককে দূরে গিয়ে লেনদেন করতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটিই অপচয় হয়।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক শাখা স্থাপন করা হলে কৃষিঋণ, আম বিক্রির অর্থ লেনদেন এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সহজ হবে।

আমচাষি মারুফ হোসেন বলেন, হাঁড়িভাঙা এখন শুধু একটি ফল নয়; এটি এই অঞ্চলের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই অবকাঠামো উন্নয়ন, সংরক্ষণ সুবিধা এবং আর্থিক সেবার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সড়ক উন্নয়ন, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে হাঁড়িভাঙা আমকে ঘিরে গড়ে ওঠা অর্থনীতি আরো  শক্তিশালী হবে বলে মনে করেন এই কৃষক।

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, জেলা প্রশাসনের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে হাঁড়িভাঙা আমের অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, ওয়াশ ব্লক তৈরি এবং ব্যাংকের শাখা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া আম পরিবহনের সুবিধার্থে ম্যাঙ্গো ট্রেনের ব্যবস্থাসহ সব ধরনের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।