• ই-পেপার

২০২২ ফুট দৈর্ঘ্যের পতাকা তৈরি করে সাড়া ফেলেছেন আর্জেন্টিনার সমর্থকরা

মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধের দাবিতে ৫ জেলায় পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

বাগেরহাট প্রতিনিধি
মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধের দাবিতে ৫ জেলায় পরিবহন ধর্মঘটের ডাক
ফাইল ছবি

মহসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ৫ জেলায় পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন।

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠকের পরও তাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় রবিবার থেকে তারা ধর্মঘট শুরু করবেন। ধর্মঘট শুরু হলে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলায় এই ধর্মঘটের আওতায় থাকবে।

বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে সরকারি ১৮টি বিআরটিসি বাস চলাচলের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক বেশি চলে। এ ছাড়া মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রি হুইলার অবাধে চলাচল করছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন সময় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় সভা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও কোনো সমাধান হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, ‘বাস মালিক সমিতির তিন দফা দাবির বিষয়ে আমরা অবগত আছি। মহাসড়কে পরিবহণ ধর্মঘট যেনো না হয় সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।’

বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের ৩ দফা দাবিগুলো হলো—

১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে অন্যসব কাউন্টার অপসারণ করা।

২. আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রি-হুইলার, মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।

৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ১৫ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ১৫ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা
সংগৃহীত ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোকনপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে ১৫ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির বাধার মুখে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ।

বিজিবি জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মেইন আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ২২০/এমপি-এর কাছ দিয়ে ৮৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ৫ শিশু, ৮ নারী ও দুজন পুরুষকে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে বিএসএফের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

বিজিবি আরো জানায়, বিজিবির দৃঢ় অবস্থান ও কঠোর তৎপরতার কারণে শনিবার ভোররাতে বিএসএফের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত পিলার ২২০/এমপি সংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার ভবানীপুর এলাকা দিয়ে তাদের ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, রাত ১টার দিকে বিজিবির কাছ থেকে খবর পেয়ে এলাকায় মাইকিং করে লোক জড়ো করে বিজিবিকে পুশ ইন ঠেকাতে সাহায্য করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশসহ এলাকাবাসী সারা রাত ক্লান্তিহীন পাহারার পর এখনো সতর্ক রয়েছেন। সম্মিলিত চেষ্টায় পুশ ইনের চেষ্টা করা ১৫ জনকে হটিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, বিজিবি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল অব্যাহত রয়েছে। 

তিনি আরো জানান, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশ ইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, অবৈধ পারাপার প্রতিরোধে বিজিবি সার্বক্ষণিক সতর্ক রয়েছে এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে বিজিবি বদ্ধপরিকর বলেও জানান এই অধিনায়ক।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৪ জানুয়ারি গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। কিন্তু বিজিবির কঠোর প্রতিরোধের মুখে টানা দুই দিন সীমান্তে অবস্থানের পর তাদের সীমান্ত থেকে ভারতের ভেতরে সরিয়ে নেয় বিজিবি। এর আগে গত ৬ এপ্রিল রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে দুই নারীকে পুশ ইন করে বিএসএফ। গোমস্তাপুর সীমান্ত থেকে মালদহ কাছে হওয়ায় এই সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ পুশ ইনের চেষ্টা করে বলে জানিয়েছেন লে. কর্নেল মাসুম।

 

ভক্তদের দাবি

হাতের গোলে জয়ের সুযোগ নাই আর্জেন্টিনার, ব্রাজিল এবারও সেভেন আপ পাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
হাতের গোলে জয়ের সুযোগ নাই আর্জেন্টিনার, ব্রাজিল এবারও সেভেন আপ পাবে
সংগৃহীত ছবি

বরিশালে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় একে অপরের ওপর নানা অভিযোগ করার পাশাপাশি এবারের বিশ্বকাপ জয়ের আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় বরিশাল নগরীর বেলস পার্কে আর্জেন্টিনা ও বিকেল ৪টায় ব্রাজিলের সমর্থকদের পৃথক ২টি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় আর্জেন্টিনা ভক্তরা দাবি করেন, গতবারের মতো এবারেরও বিশ্বকাপ দখলে থাকবে তাদের। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। তারা আবারও সেভেন আপ নিয়ে যাবে।

তবে ব্রাজিল সমর্থকরা জানান, ব্রাজিলের এবারের বিশ্বকাপ জয় কেউ আটকে রাখতে পারবে না। আর্জেন্টিনা হাত দিয়ে গোল দেওয়া ছাড়া কোৎনো বিশ্বকাপ জয় করতে পারেনি। ফলে এবারের উন্নত প্রযুক্তি সমৃদ্ধ বিশ্বকাপ আয়োজনের কোনো খেলাতেই হাত দিয়ে গোল করার সুযোগ পাবেন না আর্জেন্টিনা। ফলে আর্জেন্টিনার হার নিশ্চিত বলে দাবি তাদের।

এদিকে পৃথক ২টি আয়োজনে পিকআপ ভাড়া করে সাউন্ড সিস্টেমের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিশ্বকাপের নানা গান বাজতে থাকে। এ ছাড়া দুই দলের বড় বড় পতাকাও নিয়ে আসেন সমর্থকরা। পরে দুই দলের সমর্থকরাই শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে পৃথক শোভাযাত্রা ২টি বের হয়।
 
শোভাযাত্রা ২টি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবারো বেলস পার্কে এসে শেষ হয়।

নিখোঁজ নয়, আত্মগোপনে ছিলেন শিবির নেতা জিসান : পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক
নিখোঁজ নয়, আত্মগোপনে ছিলেন শিবির নেতা জিসান : পুলিশ
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধান। সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ২৩ ঘণ্টা পর বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধানকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে নিখোঁজ নয়, জিসান আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ নিয়ে শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৮টা ২৯ মিনিটে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধান দাউদকান্দি হতে নিখোঁজ হিসেবে শুক্রবার দাউদকান্দি থানায় এসে তার পক্ষে মো. রাসেল আহম্মেদ জিডি করেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় দাউদকান্দি বাজার এলাকা হতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়। জিডির প্রেক্ষিতে উদ্ধারের জন্য জেলা পুলিশের একাধিক টিম উদ্ধার কাজে তৎপর হয়। অনুসন্ধানকালীন প্রথমত নিখোঁজ জিসানের চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে জানা যায়, গত ৫/৬ মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর (২৫) সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথাবার্তা শুরু হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

অনুসন্ধান আরো জানা যায়, গত ২০ মে দাউদকান্দি থানাধীন জিসানের ভাড়া বাসায় ওই নারীকে জিসান ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় জিসান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে জিসান ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এক পর্যায়ে বাচ্চা নষ্ট না করলে ভুক্তভোগীকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন জিসান। পরে ওই নারী প্রাণের ভয়ে বাচ্চা নষ্ট করতে রাজি হন। এসময় জিসান তার বন্ধু সেকান্দার আলীর ওষুধের দোকান থেকে বাচ্চা নষ্ট করার ট্যাবলেট কিনে ভুক্তভোগীকে খাওয়ালে ভ্রূণ নষ্ট হয়। এসময় ওই নারীর সুস্থতার জন্য জিসান তার চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে পুনরায় ফার্মেসি থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে ভুক্তভোগীর বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরে ভুক্তভোগী নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এক পর্যায়ে জিসান ১২ জুন বিয়ে করতে রাজি হন। এর আগে ১১ জুন রাত ৮টার পর পর বিয়ে না করার টালবাহানায় জিসান নিজেই আত্মগোপন করে তার চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহম্মেদের মাধ্যমে দাউদকান্দি থানায় উল্লিখিত জিডি করান। পরবর্তীতে নিখোঁজ জিডির অনুসন্ধানকালীন সময়ে কুমিল্লার লাকসাম থানা এলাকা স্থানীয় লোকজন ও লাকসাম থানা পুলিশের মাধ্যমে আত্মগোপন থাকা জিসান মিয়া প্রধানকে উদ্ধার করা হয়।

পরে ভুক্তভোগী নারী থানায় হাজির হয়ে জিসানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে দাউদকান্দি থানায় মামলা হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।