• ই-পেপার

কলমাকান্দায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

স্ত্রীর শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা, মাথার চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
স্ত্রীর শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা, মাথার চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ
স্বামী আপন

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীর শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা, মাথার চুল কাটা ও বোতল দিয়ে আঘাত করায় স্বামী আপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে আপনের স্ত্রী শিমু আক্তার বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় স্বামী আপন মিয়া, শ্বশুর ফজলু মিয়া ও শাশুড়ি আন্না বেগমকে আসামি করে এ মামলা করেন বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদ ফজল জানিয়েছেন।

জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার মেয়ে শিমু আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রামের মধ্যপাড়ার ফজলু মিয়ার ছেলে আপন মিয়ার বিয়ে হয়। আপন মিয়া ২০২১ সালে সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরি নেন। তিনি কক্সবাজার রামুতে কর্মরত। বর্তমানে রংপুরের সৈয়দপুরে ছয় মাসের ট্রেনিংয়ে আছেন বলে জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্র জানান, বিয়ের তিন মাস পর থেকে আপন ও শিমুর মধ্যে শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। সম্প্রতি স্বামী আপন মিয়া মোটরসাইকেল ক্রয়ের জন্য শিমুর পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছিল। তার চাহিদামতো এই টাকা দিতে না পাড়ায় স্ত্রী শিমুর ওপর নানাভাবে নির্যাতন শুরু করেন আপন। আপন ২১ মে ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসেন। গত শনিবার (২৩ মে) স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শিমুকে শারীরিক নির্যাতন চালান এবং মাথার চুল কেটে দেন। 

গত শুক্রবার (২৯ মে) আপন স্ত্রী শিমুকে নিয়ে উপজেলার ধেরুয়া এলাকার আনিশা জলকুটির রেস্টুরেন্টে যান। সেখানে স্ত্রী শিমুর হাতে ও আঙুলে কাচের বোতল দিয়ে আঘাত করে আহত করে। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দেন স্বামী। পরে সেখান থেকে আহত অবস্থায় লতিফপুর গ্রামে নিয়ে যান এবং রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা শ্বশুর-শাশুড়ির সামনে শিমুকে রেখে আপন চলে আসে। রাতে পরিবারের লোকজন শিমুকে জামুর্কীস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ৩০ মে শিমু আক্তার বাদী হয়ে স্বামী আপন, শ্বশুর ফজলু মিয়া ও শাশুড়ি আন্না বেগমকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে শুক্রবার বিকেলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করেন।

নির্যাতিত গৃহবধূ শিমু আক্তার বলেন, আমার স্বামীর অন্য একজনের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক আছে। আমার সঙ্গে বিয়ের আগে ওই মেয়ে আমার স্বামী আপনের নির্দেশে বিয়ের দাবিতে বাড়িতে উঠেছিল। এ ঘটনা আমার বিয়ের পরে জানতে পারি। আপন ওই মেয়েকেও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার আগের স্বামীকে ডিফোর্স দেওয়ায়। কিন্তু আপন তাকে বিয়ে না করে এই তথ্য গোপন করে আমাকে বিয়ে করেছিল। বিয়ের পর থেকে আমাকে অনেক মারধর করা হয়েছে। আমার দরিদ্র বাবা-মায়ের কথা চিন্তা করে আমি তার সংসার করতে চেয়েছি। কিন্তু এখন আর পারছি না। আমি চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আমার স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের সুষ্ঠু বিচার হোক।

লতিফপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মিজানুর রহমান বলেন, স্বামী আপন স্ত্রী শিমুর মাথার চুল কেটে দিয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। স্ত্রী অপরাধ করতে পারে, তাই বলে এমন অমানবিক নির্যাতন কাম্য নয়। আমরা এর সঠিক বিচার দাবি করছি। 

অভিযুক্ত স্বামী আপন মিয়া বলেন, স্ত্রী শিমুর সঙ্গে দেওহাটা এলাকার সাগর নামে এক ছেলের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক আছে। এই সম্পর্কের কারণে আমার চার মাসের সন্তান নষ্ট করেছে শিমু। 

স্ত্রী শিমুর মাথার চুল কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, শিমুর টাইফয়েড জ্বর হয়েছিল। ডাক্তারের পরামর্শে চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। সুস্থ অবস্থায় তার বাবা-মার কাছে শিমুকে দিয়ে আসেন বলে জানান।   

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদ ফজল জানান, এ ঘটনায় গৃহবধূ শিমু আক্তার তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান।

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্য আটক

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্য আটক
ফাইল ছবি

নোয়াখালী জেলা শহরে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটকদের মধ্যে ১৭ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেলা শহর মাইজদীর পৌরবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাইজদী শহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। কয়েক দিন আগে জেলা শহরে একটি কিশোর গ্যাং প্রকাশ্যে বড় ধরনের শোডাউন করে। এসব গোষ্ঠীর সদস্যরা নানা ধরনের বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে আটক করে পুলিশ।

জানতে চাইলে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কেপিজি’ নামের পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্যকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তাদের পরিচয়, বয়স ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্ত শেষে শনিবার সকালে আটকদের নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হবে।

যমুনা সেতুতে ২৩ ঘণ্টায় ২৪ দুর্ঘটনা, ঢাকামুখী মহাসড়কে ভোগান্তি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
যমুনা সেতুতে ২৩ ঘণ্টায় ২৪ দুর্ঘটনা, ঢাকামুখী মহাসড়কে ভোগান্তি
রাত ১১টার দিকে সেতুর পশ্চিম মহাসড়কের কামারখন্দ এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঈদের ছুটি শেষ করে শনিবার থেকে পোশাক কারখানাগুলো খুলছে। তাই উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে কর্মমুখী মানুষ ঢাকায় ছুটছে। এ কারণে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। এসব যানবাহনগুলো যমুনা সেতু অতিক্রম করার সময় গত ২৩ ঘণ্টায় সেতুর ওপরে ছোট-বড় মিলে ২৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ৬টি দুর্ঘটনার সময় উদ্ধার কাজে রেকার ব্যবহার করতে হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় কখনও সেতুর দুই লেন অথবা কখনও এক লেন বন্ধ রাখতে হয়েছে। যার প্রভাব সেতুর দুই পাড়েই পড়েছে। এজন্য শুক্রবার (৫ জুন) সকাল থেকেই সেতুর পশ্চিমপাড়ে যানজট ও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে কর্মমুখী এসব যানবাহন ও মানুষজনকে।

বিকেলের পর থেকে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হতে থাকে। তবে সর্বশেষ রাত ৯টার দিকে যমুনা সেতুর ওপরে দুইটি বাসের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড়ে আবারও প্রায় ১৫ কিলোমিটার যানজট দেখা দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, যমুনা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে দুই বাসের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় জানা যায়নি দুর্ঘটনার কারণে সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।

আমিরুল ইসলাম আরো বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত গত ২৩ ঘণ্টায় সেতুর ওপরে ছোট বড় ২৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার রাত ১১টার পর থেকে সেতুর পূর্বপাড়ের যানবাহন পারাপার বন্ধ রেখে সেতুর প্রতিটি লেন দিয়ে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যানবাহন পারাপার শুরু করা হয়েছে। আমরা আশা করছি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, পশ্চিম টোলপ্লাজা পার হওয়ার পরপরই যানবাহন বিকল হওয়া, একটার পিছনে আরেকটার ধাক্কাসহ নানা কারণে সেতুর ওপরে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হতে পারে। সেগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেতুর উভয় লেনেই যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যেকোনো একটি যানবাহন বিকল হলেই পেছনে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। আজ যানবাহনের চাপও অনেক বেশি, ফলে সংকট আরও বেড়েছে।

সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাসের চালক রুবেল শেখ রাত ১১টার দিকে মোবাইলে বলেন, শুক্রবার সকাল ১০টার পর যমুনা সেতু অতিক্রম করার সময় পশ্চিমপাড়ে ৫ ঘণ্টা যানজটে আটকে ছিলাম। কোনাবাড়ি থেকে ফেরার পথে রাত ৮টার সময় টাঙ্গাইলের এলাঙ্গায় এসে সেতুর পূর্বপাড়ে যানজটে আটকে আছি। কখন সেতু পার হতে পারবো বুঝতে পারছি না।

সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মহাসড়কে সার্বক্ষণিক সিসি ও ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করা হচ্ছে। তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে মহাসড়কের আপডেট পরিস্থিতি প্রচার করা হচ্ছে। যানবাহন ও জনদুর্ভোগের কারণে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

এ মহাসড়ক দিয়ে সাধারণ সময়ে ১৭/১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদের সময়ে তা বেড়ে ৫০ হাজারের অতিক্রম করে থাকে।

লালমনিরহাটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

অনলাইন ডেস্ক
লালমনিরহাটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

নিষিদ্ধ ঘোষণার দীর্ঘদিন পর প্রথমবারের মতো লালমনিরহাট শহরে ব্যানারসহ ঝটিকা মিছিল বের করেছে জেলা ছাত্রলীগ।

শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর জেলা শহরের রেলওয়ে কর্মকর্তাদের বাসভবন এলাকা ও বুড়িমারী পাটগ্রাম মহাসড়কে ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আশপাশের কিছু এলাকার সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের বিজিবি ক্যান্টনমেন্ট মোড় এলাকায় ফিরে এসে শেষ হয় ঝটিকা মিছিলটি।

১০ মিনিটের মতো স্থায়ী এ ঝটিকা মিছিলে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের লালমনিরহাটের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন। এসময় বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন তারা।

মিছিল শেষ করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন অংশগ্রহণকারীরা।

আকস্মিক এ মিছিলের কারণে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।