ঈদের ছুটি শেষ করে শনিবার থেকে পোশাক কারখানাগুলো খুলছে। তাই উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে কর্মমুখী মানুষ ঢাকায় ছুটছে। এ কারণে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। এসব যানবাহনগুলো যমুনা সেতু অতিক্রম করার সময় গত ২৩ ঘণ্টায় সেতুর ওপরে ছোট-বড় মিলে ২৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ৬টি দুর্ঘটনার সময় উদ্ধার কাজে রেকার ব্যবহার করতে হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় কখনও সেতুর দুই লেন অথবা কখনও এক লেন বন্ধ রাখতে হয়েছে। যার প্রভাব সেতুর দুই পাড়েই পড়েছে। এজন্য শুক্রবার (৫ জুন) সকাল থেকেই সেতুর পশ্চিমপাড়ে যানজট ও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে কর্মমুখী এসব যানবাহন ও মানুষজনকে।
বিকেলের পর থেকে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হতে থাকে। তবে সর্বশেষ রাত ৯টার দিকে যমুনা সেতুর ওপরে দুইটি বাসের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড়ে আবারও প্রায় ১৫ কিলোমিটার যানজট দেখা দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, যমুনা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে দুই বাসের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় জানা যায়নি দুর্ঘটনার কারণে সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।
আমিরুল ইসলাম আরো বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত গত ২৩ ঘণ্টায় সেতুর ওপরে ছোট বড় ২৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার রাত ১১টার পর থেকে সেতুর পূর্বপাড়ের যানবাহন পারাপার বন্ধ রেখে সেতুর প্রতিটি লেন দিয়ে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যানবাহন পারাপার শুরু করা হয়েছে। আমরা আশা করছি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, পশ্চিম টোলপ্লাজা পার হওয়ার পরপরই যানবাহন বিকল হওয়া, একটার পিছনে আরেকটার ধাক্কাসহ নানা কারণে সেতুর ওপরে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হতে পারে। সেগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেতুর উভয় লেনেই যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যেকোনো একটি যানবাহন বিকল হলেই পেছনে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। আজ যানবাহনের চাপও অনেক বেশি, ফলে সংকট আরও বেড়েছে।
সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাসের চালক রুবেল শেখ রাত ১১টার দিকে মোবাইলে বলেন, শুক্রবার সকাল ১০টার পর যমুনা সেতু অতিক্রম করার সময় পশ্চিমপাড়ে ৫ ঘণ্টা যানজটে আটকে ছিলাম। কোনাবাড়ি থেকে ফেরার পথে রাত ৮টার সময় টাঙ্গাইলের এলাঙ্গায় এসে সেতুর পূর্বপাড়ে যানজটে আটকে আছি। কখন সেতু পার হতে পারবো বুঝতে পারছি না।
সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মহাসড়কে সার্বক্ষণিক সিসি ও ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করা হচ্ছে। তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে মহাসড়কের আপডেট পরিস্থিতি প্রচার করা হচ্ছে। যানবাহন ও জনদুর্ভোগের কারণে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
এ মহাসড়ক দিয়ে সাধারণ সময়ে ১৭/১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদের সময়ে তা বেড়ে ৫০ হাজারের অতিক্রম করে থাকে।




