ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে সাবেক শিক্ষার্থী দম্পতিসহ ছয়জনকে হেনস্তা করার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন নারী শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার বিচার ও ক্যাম্পাসে নারীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতে দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর তিন দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছেন।
রবিবার (২৮ জুন) সকাল ১১টায় প্রক্টর কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্র সংসদের ভিপি সানজানা চৌধুরী রাত্রি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রমাগত নারীবিদ্বেষী যে কর্মকাণ্ডগুলো শিক্ষার্থীদের দ্বারা হচ্ছে, সেটির প্রতিবাদে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে বিভিন্ন হলের নারী শিক্ষার্থীরা মিলে খেলা দেখেছি এবং খেলা শেষে প্রক্টর স্যারের কাছে আমাদের বেশ কিছু দাবি পেশ করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন আর নারীবান্ধব নেই। নারীদের বিচরণ ও চলাফেরাকে সীমাবদ্ধ করার জন্য এবং তাদের অংশগ্রহণ সংকুচিত করার জন্য একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন পাঁয়তারা চলছে। প্রক্টর স্যার আমাদের কাছে কিছু সময় চেয়েছেন এবং বলেছেন তিনি বিষয়টি দেখবেন। আমরাও বলেছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।’
ডাকসু কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা বলেন, ‘দুই দিন ধরে নারী হেনস্তার ঘটনা নিয়ে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি করছি। গতকাল রাতে আমাদের কর্মসূচি ঘোষণা হয়েছে, কিন্তু ডাকসু ভিপিকে এ বিষয়ে কোনো ধরনের স্টান্ড আমরা এখন পর্যন্ত দেখতে পাইনি। বরং যারা এই হ্যারেসমেন্টগুলো করেছে, তাদের সঙ্গে ডাকসু ভিপির খুব কাছের ছবি আমরা দেখতে পেয়েছি। সুতরাং তাদের কাছে আমাদের কোনো প্রত্যাশা নেই। আমরা নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দাঁড়িয়েছি। আশা করি, প্রশাসন অভিযুক্তদের আইনের আওতায় নিয়ে বিচারের ব্যবস্থা করবে।’
ডাকসুর সমন্বয়হীনতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও অনেক ঘটনা ঘটে, যেখানে ডাকসুর স্টেটমেন্ট আসে কিন্তু হল সংসদের প্রতিনিধি যখন এমন মন্তব্য বা হ্যারেসমেন্ট করে তখন ডাকসুর কোনো স্টেটমেন্ট আসে না। আমি নিজেও ডাকসুর একজন সদস্য কিন্তু ডাকসুর স্টেটমেন্টের ব্যাপারে হয়তো একজন বা দুজন জানে। ডাকসুর এই সমন্বয়হীনতা এটাই প্রমাণ করে যে তারা কোনো কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে না, বরং এটা একপাক্ষিক এবং যারা সর্বাধিক ভোটে জয়ী হয়েছে তাদের দ্বারাই পরিচালিত হয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের তিন দাবিগুলো হলো–নারী হেনস্তার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, ক্যাম্পাসে নারী হয়রানি, অনলাইন হেনস্তা, গোপনে ভিডিও ধারণ এবং মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক ও আবাসিক পরিসরে নারীদের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে বা তাদের চলাচল ও অংশগ্রহণকে সংকুচিত করে—এমন যেকোনো আচরণ বা সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকা।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করতে গিয়ে মার্কেটিং বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শাওন-নুসরাত দম্পতিসহ ছয়জন সাবেক শিক্ষার্থী হেনস্তার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক ও শিবিরে কর্মী মো. সাজু মিয়াসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের হল থেকে জোরপূর্বক বের করে দেন। এ ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফরমে তুমুল সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।





