ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ ইন, সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে শাহবাগ মোড়ে (শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি চত্বর) এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে পল্টনের দিকে যায়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। কিন্তু কেউ যদি বন্ধুত্বের বেশে দাদাগিরি করতে চায়, তবে এ দেশের জনগণ সেটি মেনে নেবে না। বাংলাদেশের জনগণ কোনো আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের কাছে মাথানত করেনি, করবে না।’
ভারতের উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশীর সীমানা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু ভারত আমাদের প্রতি সম্মান দেখাতে পারেনি। তারা ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিন্নের বার্তা দিয়েছে। এমনকি শহীদ ওসমান হাদির খুনিকে আটকে রাখার পরও ফেরত না দিয়ে বন্দি বিনিময় চুক্তি ভঙ্গ করেছে।’
তিনি আরো বলেন, সীমান্তবর্তী ৩২ জেলার জনগণ পুশ ইন রুখে দিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও দেলাওয়ার হোসেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড. হামিদুর রহমান আযাদ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল ফ্যাসিবাদের বিদায়ের পর সীমান্তে আর কোনো হত্যা হবে না। কিন্তু নতুন সরকারও ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ জানাতে পারছে না।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সরকার যদি মুজিববাদের পথে হাঁটে, তবে আবারও ছাত্র-জনতা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।’
সীমান্তে ভারতের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘সীমান্তে প্রতিদিন হত্যাকাণ্ড ও পুশ ইন চললেও সরকার উদ্বিগ্ন নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন এটি নাকি বর্ডার কিলিং নয়! তাহলে বর্ডার কিলিং কাকে বলে, তা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে।’
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইন আমাদের স্বাধীনতার ওপর হুমকি। ভারতের দাসত্বের আওয়ামী লীগ এ দেশে আর ফিরবে না।’
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল বাতেন আনসারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন এবং এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশির প্রমুখ। বক্তারা সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেন এবং অবিলম্বে সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইন বন্ধের দাবি জানান।




