এক যুগ আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
আজ বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিককে তিনি এ তথ্য দেন। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ৩০ জুন হাসানুল হক ইনুকে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সাজা অপ্রতুল হয়েছে দাবি করে চিফ প্রসিকিউটর সেদিন বলেছিলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডে ইনুর সম্পৃক্ততা নিয়ে আজকের বিফ্রিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘এ মামলায় তদন্ত চলছে, তদন্তে ইনুর বিরুদ্ধে প্রাথমিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চলতি মাসেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হবে।’ আগামী ১০ আগস্ট এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য আছে।
এর আগে গত ১৫ জুন চিফ প্রসিকিউটর বলেছিলেন, সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কুশিলব সাবেক পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। ওই সময় তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার ছিলেন।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের সমাবেশে নির্বিচার গুলি চালিয়ে শতাধিক কর্মী হত্যার কথা উল্লেখ ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দেন হেফাজতে ইসলামীর যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক। অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। গত বছর ১৪ মে ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে গত ৩১ মার্চ আবদুল জলিল মণ্ডলকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে গত ১৪ মে গ্রেপ্তার দেখানো হয় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপাকেও।
এ মামলার তদন্তে নেমে ঢাকাসহ দেশের ৪ জেলায় এখন পর্যন্ত ৫৮ জনকে হত্যার তথ্য পাওয়ার জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। গত ৫ মে এক ব্রিফিংয়ে এই ৫৮ জনেরই পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।







