• ই-পেপার

চট্টগ্রাম-৪ আসনে নতুন করে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে : অ্যাটর্নি জেনারেল

স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলায় অভিনেতা জাহের আলভী কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলায় অভিনেতা জাহের আলভী কারাগারে
সংগৃহীত ছবি

স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানায় করা মামলায় ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া ওরফে জাহের আলভীর রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত এই আদেশ দেন।  

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আজ আলভীর পক্ষে কোনো জামিন আবেদন না থাকায় দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমরা আদালতে বলেছি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আলভীর সঙ্গে  যারা জড়িত তাদেরকে তদন্ত প্রতিবেদনে যুক্ত করার আবেদন করি।

দুই দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের  পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল মালেক। 

আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, আসামিকে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামির নিকট থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যা মামলার তদন্ত কাজে সহায়ক হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে মামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। এমতাবস্থায় মামলার তদন্ত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। 

এর আগে, গত ১৮ জুন আত্মসমর্পণের পর জাহের আলভীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ২১ জুন আসামির ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ জুন তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।  

প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এর আগে সকালে তাকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এ মামলার একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা করার নির্দেশসহ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উসকানি দেওয়া।

গত ১৪ মে এই মামলায় উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি যে কোনোদিন রায়ের জন‍্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে ছয়জন নিহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। পরে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ এনে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন।

অ্যাম্বুল্যান্সে ট্রাইব্যুনালে আনা হলো সাবেক এমপি ফজলে করিমকে

অনলাইন ডেস্ক
অ্যাম্বুল্যান্সে ট্রাইব্যুনালে আনা হলো সাবেক এমপি ফজলে করিমকে
সংগৃহীত ছবি

জুলাই আন্দোলনের সময় ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অন্যতম আসামি চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে আনা হয়। মামলায় ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ের আদেশ দেবেন ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

প্রসিকিউশন জানায়, অভিযোগ গঠনের আদেশের দিন গ্রেপ্তার আসামিদের উপস্থিত থাকতে হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। চার আসামিকে কারাগার থেকে আনলেও অসুস্থতাজনিত কারণে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন ফজলে করিম। ফলে তাকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে আনা হয়।

এ মামলায় গ্রেপ্তার অপর চার আসামি হলেন- যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু।

পলাতকরা হলেন- সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।

এর আগে, ৭ এপ্রিল তিনটি অভিযোগে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ৫ এপ্রিল ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

আপিল বিভাগের রায়

শপথ নিতে পারবেন না আসলাম চৌধুরী

অনলাইন ডেস্ক
শপথ নিতে পারবেন না আসলাম চৌধুরী

চট্টগ্রাম-৪ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। ফলে তার ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।

আদালতের এই আদেশের ফলে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আসলাম চৌধুরী আপাতত জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারছেন না। এর আগে ১৫ জুন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।

আদালতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। অপরদিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিন ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ব্যাংকের করা রিট হাইকোর্ট খারিজ করে দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরে আপিল বিভাগে আবেদন করে।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী লিভ টু আপিল করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। ফলে আসলাম চৌধুরী নির্বাচন করার সুযোগ পান। কিন্তু আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত থাকবে এবং ফলাফল প্রকাশ হবে না বলে আদেশ দেওয়া হয়।

আদেশে বলা হয়, যদি তিনি (আসলাম চৌধুরী) নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে সফল হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ (যতটুকু প্রার্থী হিসেবে তার জন্য প্রযোজ্য) সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হন। কিন্তু আদালতের আদেশের কারণে ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।