• ই-পেপার

বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যার রায় : ৫ জনের ফাঁসি ও ৫ জনের কারাদণ্ড

গাড়ি বিক্রির নামে কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় রিমান্ডে আলোচিত বাসার

নিজস্ব প্রতিবেদক
গাড়ি বিক্রির নামে কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় রিমান্ডে আলোচিত বাসার

গাড়ি বিক্রির নামে এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় মির্জা আবুল বাসারকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

রবিবার (২১ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন বাসারকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফীন ইসলাম ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে শনিবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকা থেকে বাসারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ব্যবসায়ী মো. আজিজুল ইসলাম গাড়ির গ্যারেজ ও পুরোনো গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ব্যাবসায়িক সম্পর্কের সূত্র ধরে মির্জা আবুল বাসার তার কাছে একটি পুরোনো গাড়ি বিক্রির প্রস্তাব দেন। ২০২৫ সালের ৬ জুন গাড়ির অগ্রিম মূল্য হিসেবে আজিজুল ইসলামের কাছ থেকে নগদ এক কোটি টাকা নেন বাসার। এ সময় টাকার লেনদেনের ভিডিওচিত্রও সংরক্ষণ করা হয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়, টাকা গ্রহণের পরও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গাড়ি বুঝিয়ে দেননি বাসার। পরে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে গাড়ি দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। এরপর টাকা ফেরত চাইলে তিনি টালবাহানা শুরু করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, পরে ৬ নভেম্বর একটি স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে এক মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বাসার। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দিয়ে তিনি অভিযোগকারীকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর আদালতে মামলা করার আবেদন করেন আজিজুল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত গুলশান থানাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে ২৩ ডিসেম্বর মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়।

লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবীদের ফি আরো বাড়ানো হচ্ছে : আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবীদের ফি আরো বাড়ানো হচ্ছে : আইনমন্ত্রী
সংসদে কথা বলছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি : সংগৃহীত

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবীদের ফি যৌক্তিকভাবে আরো বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আজ রবিবার (২১ জুন) সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান।

সরকারি খরচে আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে প্রচারণার অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্যানেল আইনজীবীদের কম ফি এবং এনজিওগুলোর সঙ্গে ডিজিটাল ইন্টিগ্রেশনের সুনির্দিষ্ট বাধাগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের দরিদ্র, অসচ্ছল ও নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচারপ্রাপ্তিতে অসমর্থ জনগণকে আইনি সহায়তা ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) সেবা দিতে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’কে ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর’ এ উন্নীত করেছে সরকার।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার নির্ধারিত ফি কম হওয়ায় অনেক সময় দক্ষ ও অভিজ্ঞ আইনজীবীরা লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে চান না। পাশাপাশি মামলা ফাইলিং, কোর্ট ফি কিংবা দলিলের জাবেদা নকল সংগ্রহের মতো প্রাথমিক আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য সরকারিভাবে কোনো অগ্রিম বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় আইনজীবীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়।

আইনজীবীদের এই বাস্তব সমস্যাগুলো বিবেচনা করে সরকার এরই মধ্যে প্যানেল আইনজীবীদের ফি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে এবং এই ফি আরো যৌক্তিকভাবে বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে এই সেবা পৌঁছে দিতে এবং সচেতনতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সরকার ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে ডিজিটাল লিগ্যাল এইড প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে ৩০০টি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, মোবাইল অ্যাপ ও আধুনিক অনলাইন পোর্টাল চালু এবং ‘১৬৬৯৯’ টোল-ফ্রি লিগ্যাল এইড হেল্পলাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এর বাইরেও তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত উঠান বৈঠক, গণশুনানি, পথনাটক, সেমিনার, লিফলেট বিতরণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশব্যাপী জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর কার্যপদ্ধতি, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহির কাঠামো ভিন্ন হওয়ার কারণে এই সমন্বয় করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে একটি সমন্বিত ডেটা-শেয়ারিং নীতিমালার অভাব, পৃথক কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং বিচারপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখানে প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে।’

তবে এসব সীমাবদ্ধতা দূর করে একটি নিরাপদ, সমন্বিত ও কার্যকর ডিজিটাল লিগ্যাল এইড ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানান মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি এনজিও ও অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন নামঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন নামঞ্জুর
ফাইল ছবি

জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় খোবাইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৭ম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পি এই আদেশ দেন। খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন ২০ বছর বয়সী তরুণ খোবাইব। যাত্রাবাড়ী ওভারব্রিজের নিচে শান্তিপূর্ণ অবস্থানকালে মামলার আসামিদের নির্দেশ ও মদদে পুলিশ, র‍্যাব এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই খোবাইবের মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনার পর ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।

এর আগে, গত ১৭ মে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে এবং কোনো ধরনের হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পৃথক পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর গত ৩০ মার্চ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি হত্যা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এভাবে দফায় দফায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৩ মে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন খায়রুল হকের ছেলে আইনজীবী আশিক উল হক।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে রয়েছেন।

জাহের আলভীর ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন পুলিশের, বুধবার শুনানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাহের আলভীর ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন পুলিশের, বুধবার শুনানি
সংগৃহীত ছবি

স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরা আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভী ভূঁইয়ার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে ডিবি পুলিশ। পরে আদালত রিমান্ড শুনানির দিন আগামী বুধবার নির্ধারণ করেছেন।

রবিবার (২১ জুন) মিরপুর জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মো. আব্দুল মালেক ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে এ আবেদন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে আবেদন করেন জাহের আলভী। ওই দিন তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইকরাকে উদ্দেশ্যে করে জাহের আলভী অপমান ও বিভিন্ন ধরনের মানসিক অত্যাচারসহ উসকানিমূলক কথাবার্তা উল্লেখ করে তার ফেসবুকে পোস্ট করতেন। আসামি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সে অন্য নারীর সঙ্গে ছবি সংযুক্ত করে উসকানিমূলক কথাবার্তা লিখে ফেসবুকে পোস্ট করেন। মামলার মূল রহস্য উদঘাটনসহ অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, শনাক্তকরণ ও আসামির স্থায়ী ঠিকানা উদঘাটনের জন্য ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।

মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুরের ডিওএইচএসে বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই দিন রাতেই মামলা করেন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি। 

আলভী ও ইকরা বিয়ে করেন ২০১০ সালে; তাদের সংসারে একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। এই মামলায় গত ৪ জুন জাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন।