• ই-পেপার

হত্যা মামলায় আবুল বারকাতের জামিন মেলেনি, আটকে গেল কারামুক্তি

কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের তথ্য চেয়েছেন হাইকোর্ট

অনলাইন ডেস্ক
কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের তথ্য চেয়েছেন হাইকোর্ট

সারাদেশের কারাগারে মায়েদের সঙ্গে কত শিশু রয়েছে, তাদের বয়সসহ তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট। দুই মাসের মধ্যে এ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ দীপা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফারুক হোসেন।

রুলে কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের প্রয়োজনীয় কল্যাণ, নিরাপত্তা এবং জীবনমান উন্নয়নের ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব এবং আইজি প্রিজন্সকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শীর্ষক একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে ৯ জুন এ রিট করা হয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ কারাবিধির (বাংলাদেশ জেল কোড) ৯৫৭ বিধি অনুযায়ী, নারী হাজতি ও কয়েদিরা চার বছর পর্যন্ত তাদের সন্তানদের কাছে রাখতে পারেন। তবে আইনে বলা আছে, কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ছয় বছর পর্যন্ত সন্তানদের কাছে রাখার সুযোগ মেলে।

কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, শিশুর বয়স ছয় বছর পার হলে এবং মা কারাগারে থাকলে যেসব শিশুর স্বজনরা তাদের নিতে চান, তাদের স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়। আর যেসব শিশুর স্বজন থাকে না, তাদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারি শিশুনিবাসে পাঠানো হয়।

কারা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে মায়েদের সঙ্গে ২৯৯ শিশু (২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত) রয়েছে। এসব শিশুর মায়েদের বেশিরভাগই মাদক মামলার আসামি। এর মধ্যে কন্যাশিশু ১৫৩ জন এবং ছেলেশিশু ১৪৬ জন। এই শিশুদের মায়েদের কেউ সাজা খাটছেন, আবার কারও মামলা রয়েছে বিচারাধীন।

সম্প্রতি কারা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগের ১৮টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে শিশু রয়েছে ১০০ জন। চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে রয়েছে ৯০ শিশু। রাজশাহী বিভাগের ৮টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে রয়েছে ২৫ শিশু। সিলেট বিভাগের ৫টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে রয়েছে ১৯ শিশু। এছাড়া রংপুর বিভাগের ৮টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে ২৫ জন, খুলনা বিভাগের ১০টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে ২০ জন, বরিশাল বিভাগের ৬টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে ৪ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে মায়েদের সঙ্গে রয়েছে ১৩ জন শিশু।

মায়েদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি শিশু রয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে। গত ৪ মে পর্যন্ত ওই কারাগারে ৫১ শিশু রয়েছে। এর মধ্যে ছেলে শিশু ২৪ জন এবং কন্যাশিশু ২৭ জন। এই শিশুদের প্রায় সবাইকে কারাগারের নির্দিষ্ট ওয়ার্ড বা সেলে থাকতে হয়, যেখানে অন্য সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি বা হাজতিরাও থাকেন। তাদের বেশিরভাগই হত্যা ও মাদক মামলার আসামি।

বিচার বিভাগে ৮২ স্থায়ী লিগ্যাল এইড পদ বাড়ল

বাসস
বিচার বিভাগে ৮২ স্থায়ী লিগ্যাল এইড পদ বাড়ল
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম শক্তিশালী করতে রাজস্ব খাতে স্থায়ীভাবে ৮২টি নতুন লিগ্যাল এইড পদ বাড়িয়েছে সরকার। এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গ্রেড-৩-এ ৭২টি ‘চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার’ পদ সৃজন করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে ৬৪টি এবং ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল মহানগর লিগ্যাল এইড অফিসে ৮টি পদ থাকবে।

এ ছাড়া গ্রেড-৩-এ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের জন্য ২টি ‘লিগ্যাল এইড অফিসার (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ)’ পদ সৃজন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গ্রেড-৪-এ ৮টি ‘লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ)’ পদ সৃজন করা হয়েছে। এসব পদ দেশের ৮টি মহানগর লিগ্যাল এইড অফিসে কর্মরত থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, পূর্বে সৃজিত ‘সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসার (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ)’ পদের নাম পরিবর্তন করে ‘চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ), সুপ্রিম কোর্ট’ করা হয়েছে।

তবে এ পদের বেতন স্কেলে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। নতুন সৃষ্ট পদগুলোর ব্যয়ভার আইন ও বিচার বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের বরাদ্দকৃত বাজেট থেকে বহন করা হবে। বিচারিক পদ সৃজন কমিটির সুপারিশ এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে পদগুলো সৃষ্টি করা হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান

কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণসহ দুজনকে হত্যা মামলার রায় ২৮ জুন

অনলাইন ডেস্ক
কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণসহ দুজনকে হত্যা মামলার রায় ২৮ জুন

জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রামপুরায় কার্নিশে ঝুলন্ত তরুণসহ দুজনকে হত্যা এবং আরও দুজনকে গুলির ঘটনায় করা মামলার রায় ২৮ জুন ঘোষণা হবে।

সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন।

মামলায় পাঁচজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানও রয়েছেন।

অন্য অভিযুক্তরা হলেন, ডিএমপির তৎকালীন (খিলগাঁও জোন) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রাশেদুল ইসলাম; রামপুরা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান; একই থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়া; এবং রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার।

অভিযুক্তদের মধ্যে কেবল চঞ্চল বর্তমানে কারাগারে আছেন, আর বাকি চারজন পলাতক রয়েছেন।

এরআগে গত ১০ জুন চঞ্চল চন্দ্র সরকার পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন এবং তার বক্তব্যে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি তিনি প্রথম দফায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।

গত ৪ মার্চ মামলাটির রায় ঘোষণার কথা থাকলেও নতুন ডিজিটাল আলামত উপস্থাপনের জন্য প্রসিকিউশনের আবেদনের পর তা স্থগিত করা হয়। পরে প্রথম সাক্ষী আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।

মামলাটিতে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে ৭ আগস্ট প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিল করেছিল। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলার বিচার চলছে।

ফের গ্রেপ্তার তৌহিদ আফ্রিদি, আদালতে ছেলের জন্য চাইলেন দোয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফের গ্রেপ্তার তৌহিদ আফ্রিদি, আদালতে ছেলের জন্য চাইলেন দোয়া
ছবি: কালের কণ্ঠ

রাজধানীর ওয়ারী থানার প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে  ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালত এই আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তজা ইবনে ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার দেখিয়ে এদিন দুপুর ১২টার দিকে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত সাংবদিকদের উদ্দেশ্য করে তৌহিদ আফ্রিদি বলেন, ‘আমার ছেলের জন্য দোয়া চাই।’

এর আগে, আসামিকে আদালতে হাজির করে এই মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার উপপরিদর্শক মো. মাহফুজুর রহমান। আবেদনে বলা হয়, এই মামলায় তদন্তে সন্ধিগ্ধ আসামি নিশাদুজ্জামান নিশাদকে জিজ্ঞাসাবাদে তৌহিদ উদ্দিন তৌহিদ উদ্দিন আফ্রিদীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে । মামলাটির তদন্ত স্বার্থে আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তজা ইবনে ইসলাম গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী ইকবাল মাহমুদ শোভনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একটি অনলাইন প্রতারক চক্র ভুক্তভোগী বাদীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। এরপর তারা বিভিন্ন ধাপে টাকা বিনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করে। শুরুতে অল্প পরিমাণ অর্থ ফেরত দিয়ে বিশ্বাস অর্জনের পর ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। পরে মুনাফাসহ অর্থ ফেরতের আশ্বাস দিলেও ভুক্তভোগীর কাছ থেকে সর্বমোট ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ওই ঘটনায় সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যূতি অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে ওয়ারী থানায় একটি মামলা করেন।

গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ। এরপর তাকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ তিনটি মামলা চলমান রয়েছে।