আইজিপির সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
সামনে রথযাত্রা উৎসব

রুমা
কাজ শেষ না হতেই সড়কে ভাঙন

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় নির্মাণকাজ শেষ না হতেই কোথাও কোথাও উঠে যাচ্ছে পিচ, কোথাও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ভাঙন। একই সঙ্গে চলমান প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ঠিকাদারকে বিল পরিশোধের প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পাহাড়ে স্থানীয় গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নির্মীয়মাণ কয়েকটি সড়কের কাজ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে রুমা-রোয়াংছড়ি অভ্যন্তরীণ সংযোগ সড়কের পাইন্দু হেডম্যানপাড়া অংশের নির্মাণকাজ নিয়ে। এলজিইডির তথ্যানুযায়ী, ১.৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি ৭৫ লাখ ৬৯ হাজার ৬১০ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ছয়টি স্থানে মোট ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যের রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ছোহ্লামং মারমা, এবাই মং মারমা ও উক্য থোয়াই মারমা জানান, ২০২১-২২ অর্থবছরে একই সড়কের প্রথম ধাপের প্রায় এক হাজার ৫০ মিটার পিচ ঢালাইয়ের কাজ ২০২৪ সালে শেষ হয়। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত না করেই আবারও নতুন অংশে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে।
বান্দরবান এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, মায়াধন কনোটেক্সনের লাইসেন্সের আওতায় কাজটি পরিচালিত হলেও বাস্তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছেন উপঠিকাদার হিসেবে মেহেদী হাসান। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ভ্যাট ও আয়কর (ইনকাম ট্যাক্স) ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজটি পরিচালনা করছেন।
এ বিষয়ে লাইসেন্সের মূল মালিক মায়াধন তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘কাজটি আমার লাইসেন্সে হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছেন মেহেদী হাসান।’
উপঠিকাদার মেহেদী হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
পাইন্দু ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য গংবাসে মারমা বলেন, এখানে অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে।
পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা বলেন, প্রথম ধাপের রাস্তা এক বছরের মধ্যেই ভেঙে গেছে। দ্বিতীয় ধাপের কাজ নিয়েও এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে।
এলজিইডির তদারকির দায়িত্বে থাকা ফিল্ড অফিসার (এসও) বিদ্যুৎ চরণ ধর জানান, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে জেলা কার্যালয়ে অবহিত করা হয়েছে।
রুমার অতিরিক্ত উপজেলা প্রকৌশলী ও চলতি দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী দিবাকর রায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অফিসে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বান্দরবান এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, কোনো রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরবর্তী বরাদ্দ এলে তা মেরামত করা হবে।
আদাবরে বিএনপি নেতা হত্যা
তদন্তে কিশোর গ্যাংয়ের একাধিক গ্রুপের সক্রিয় থাকার তথ্য

রাজধানীর আদাবরে স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার বাদশা মিয়া হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের একাধিক সক্রিয় গ্রুপের তথ্য পাচ্ছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এসব গ্রুপ মাদক কারবার, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডেও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর কালের কণ্ঠকে বলেন, বিএনপি নেতা বাদশা মিয়া হত্যাকাণ্ডে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জড়িত। তিনি বলেন, এলাকায় কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ। গতকাল বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শায়েব, আরমান ও নয়নকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বুধবার আদাবর থানার নবোদয় হাউজিং এলাকায় ধারালো অস্ত্রের হামলায় গুরুতর আহত হন স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার বাদশা মিয়া (৪৫)। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তদন্তে জানা গেছে, ব্রাজিলের ফুটবল ম্যাচে জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে ওই ঘটনার জেরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় একটি বৈঠক বসে। বৈঠক শেষে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বাদশা মিয়াসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্রের হামলার শিকার হন। আহত সাদ্দাম বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর-আদাবর জোনের এডিসি জুয়েল রানা বলেন, ঘটনার পর সাদ্দাম আদাবর থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। তবে তদন্তে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।
র্যাব ও পুলিশ সূত্র জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন একটি হালনাগাদ তালিকা করেছে। সেই তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে দেশে কিশোর গ্যাংয়ের ৩৩৯টি গ্রুপ সক্রিয়।
তিনজনকে ছুরিকাঘাত : গত শুক্রবার রাতে মহাখালী ওয়্যারলেস গেটের শিশু মেলা স্কুলের সামনে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিনজন ছুরিকাহত হন। আহতরা হলেন সুমন মিয়া, তাঁর স্ত্রী সোনিয়া ও সোনিয়ার ভাই রাসেল। বনানী থানার এসআই মো. জানে আলম বলেন, এ ঘটনায়ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
কাঁঠালবাগানে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩

রাজধানীর কলাবাগান থানার কাঁঠালবাগান এলাকায় সেপটিক ট্যাংক থেকে রহস্যজনক বিস্ফোরণে তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। গত বুধবার রাতে একটি সাততলা ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—মো. জুয়েল, তাঁর চাচাতো ভাই মো. পারভেজ ও রানা মিয়া। তাঁদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা সবাই ফার্নিচারকর্মী। তাঁদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে।
চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে স্বজনরা বলছে, আগুনে আহতদের মধ্যে রানার শরীরের ৬৩ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাঁকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা চলছে। জুয়েলের ৩০ শতাংশ ও পারভেজের শরীরের ২১ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কলাবাগান থানার ওসি মো. ফজলে আশিক বলেন, ওই বাসার কক্ষটির নিচে সেপটিক ট্যাংক ছিল। কক্ষটি দুই দিন ধরে বন্ধ ছিল। আবার সেপটিক ট্যাংকের সঙ্গে গ্যাসের পাইপের সংযোগ ছিল। সেখান থেকে গ্যাস বের হয়ে জমে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিন যুবক গত রাতে ওই কক্ষে ঢুকে লাইটার জ্বালানোর পর বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।
