পদ দেওয়ার কথা বলে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজারে একটি তারকা হোটেলে ডেকে নিয়ে তরুণীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও বিদেশি মদ (ওয়াইন) পানের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সুজা উদ্দীন ও নেত্রী সাদিয়ার বিরুদ্ধে। তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী। ঘটনা তদন্তে এনসিপির পক্ষ থেকে একটি কমিটি করা হয়েছে। অন্যদিকে নগর পুলিশের দুটি টিম এ নিয়ে কাজ করছে।
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে শুক্রবার (১৯ জুন) ওই তরুণী চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ির একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এর আগে তিনি ১৭ জুন চকবাজার থানায় জিডি করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, তরুণী চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার সিডিএ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রামে এনসিপির সক্রিয় কর্মী। জিডিতে অভিযোগ আনা হয়েছে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দীন এবং এনসিপির নারী শাখা জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে। সুজা উদ্দীন বান্দরবান থেকে পার্বত্য আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ছিলেন। সাদিয়া আফরিন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসন থেকে এনসিপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।
জিডি করার তিন দিনের মাথায় শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে ওই তরুণী নিজেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, এনসিপির কর্মী ও চট্টগ্রাম মহানগর নারী শক্তির পদপ্রত্যাশী বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাকে পেনিনসুলা হোটেলের টপ ফ্লোরে নিয়ে সুজা আমাকে ওয়াইন নিতে উৎসাহিত করেন। কী ড্রিংকস আমি নেব, সেটা জানতে চেয়েছিলেন তিনি।’ তিনি বলেন, ‘আমি যখন প্রস্তাবে সাড়া দিইনি, তখন সুজা আমাকে বলেন, ডিল অর ডেথ। রাজনৈতিক সুবিধা, পদ-পদবি এবং আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার কথা বলে আমাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়।’
সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনা তদন্ত করেছে পুলিশ। পুলিশ বারে গিয়ে সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করেছে।
এ বিষয়ে এনসিপি নেতা সুজা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পেনিনসুলার টপ ফ্লোর সবার জন্য ওপেন। সেখানে এমন ঘটনা ঘটেনি। মূলত পদবঞ্চিত কয়েকজন নেতা এসব ষড়যন্ত্র করছে। দলের কেন্দ্রীয় কমিটি বিষয়টি সম্পর্কে জানে। ঘটনাটি নিয়ে দলের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

