সংগীত এমন একটি অনন্য সেতুবন্ধ, যা দুই দেশের মানুষকে আরো কাছাকাছি নিয়ে আসে।
ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত

সংগীত এমন একটি অনন্য সেতুবন্ধ, যা দুই দেশের মানুষকে আরো কাছাকাছি নিয়ে আসে।
ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত

দেশে গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৫৪ জনের। হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৯৬৫ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম পরিস্থিতি নিয়ে এই তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯০২ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৭২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮০ জন, বরিশাল বিভাগে ১০৩ জন, সিলেট বিভাগে ৮৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪৪ জন, খুলনা বিভাগে ৪১ ও রংপুর বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ১৭ জন ভর্তি রয়েছে।
গতকাল হামের উপসর্গে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে ঢাকায় তিনজন, সিলেট ও বরিশালে একজন করে মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, সারা দেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের। এ ছাড়া উপসর্গ নিয়ে ৬৩১ জন মারা গেছে। এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৭২ জন মারা গেছে ঢাকায়। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৮৮, সিলেটে ৮১, চট্টগ্রামে ৫১, বরিশালে ৪০, ময়মনসিংহে ৬২, খুলনায় ২৮ এবং রংপুরে আটজন মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এ পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ দুই হাজার ৯৯৩ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ২৮৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬ হাজার ৪১১ জন রোগী ভর্তি হয়। এই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে ৮২ হাজার ৭৫৯ জন ছাড়পত্র পায়। অর্থাৎ গতকাল সারা দেশে তিন হাজার ৬৫২ জন হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিল। সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১ মে সারা দেশের হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিল তিন হাজার ৪৫০ জন।
অর্থাৎ হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমছে না। হাসপাতালে ভর্তি ছাড়াও হামের রোগী আছে, যারা বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে না আসায় হাসপাতালে রোগী আসছে। ভর্তিও হচ্ছে।

পদ্মা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে মাটি অপসারণ প্রকল্পের প্রয়োজনেই করা হয়েছে এবং এতে সেতুর নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জে পদ্মা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি ভায়াডাক্টের নিচে মাটি কাটার বিষয়ে যেভাবে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। মাটি অপসারণের বিষয়টি সত্য হলেও এটি কোনো অপরিকল্পিত বা স্বেচ্ছাচারী কাজ নয়। বরং প্রকল্পের চুক্তি ও নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই কাজ করা হচ্ছে। তিনি জানান, ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ১৬.৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট নির্মাণের সময় ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের জন্য জলাভূমির ওপর অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট করা হয়েছিল। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সেই ভরাট মাটি অপসারণ করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বাধ্যবাধকতা চুক্তিতেই রয়েছে।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে ১৬.৭৬ কিলোমিটারের মধ্যে ১৪.৪১ কিলোমিটার অংশের অস্থায়ী ভরাট মাটি অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২.৩৪ কিলোমিটার অংশের কাজ বাকি রয়েছে। পরিবেশের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ও জলাভূমির ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থেই এই কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট মাটি অপসারণের পর মূল প্রাকৃতিক স্তরে পৌঁছা যাবে। আর সেই স্তরেরও সাত থেকে আট ফুট নিচে রয়েছে পাইল ক্যাপ, যার পুরুত্ব ছয় ফুট। এর আরো নিচে প্রায় ২০০ ফুট গভীরে আটটি পাইলের ওপর পুরো ভায়াডাক্ট দাঁড়িয়ে আছে। ফলে মাটি অপসারণের সঙ্গে সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তার কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই।
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষজ্ঞদের নকশা ও তত্ত্বাবধানে কাজটি পরিচালিত হচ্ছে। রেলওয়ের জায়গা রেলওয়ের প্রয়োজনেই ব্যবহৃত হবে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে যেটুকু মাটি অপসারণ প্রয়োজন, সেটুকু অবশ্যই করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়েও আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।’
ওই সময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলসচিব ফাহিমুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ প্রমুখ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও সাইবার অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রগতিশীল ও উদারপন্থী মুসলিম রাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের যেকোনো অপচেষ্টা বা অপপ্রচার কঠোর হাতে দমন করা হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের সাইবার অপরাধ ও অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ইস্যু সহজ করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাসংগ্রাম ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে আসছে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তৎকালীন সময়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে জনমত ও সমর্থন আদায়ে বলিষ্ঠ ও অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের নীতিগত ও নৈতিক সমর্থন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। তিনি তাঁদের বাংলাদেশে আগমন ও পড়াশোনা নির্বিঘ্ন করতে অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ সহযোগিতা চান।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠাতে রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান।
রাষ্ট্রদূত আরো অনুরোধ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে কোনো ফিলিস্তিনি নাগরিক বা শিক্ষার্থী বাংলাদেশের ভিসার জন্য আবেদন করলে যথাযথ যাচাইয়ের স্বার্থে সেই আবেদনের একটি অনুলিপি যেন ঢাকাস্থ ফিলিস্তিন দূতাবাসে পাঠানো হয়।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মুসলিম ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে আমরা ফিলিস্তিনকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ভালোবাসি ও বিশ্বাস করি। ফিলিস্তিনের নাগরিকদের কল্যাণে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সব সময় প্রস্তুত রয়েছে।’
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত তাঁকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন ও শুভ কামনা জানান।