আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে এবং যুদ্ধ প্রতিরোধে জাপানের সামরিক সক্ষমতা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি। বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকরে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী দীর্ঘদিনের ‘শান্তিবাদী নীতি’ পুনর্বিবেচনা করার ওপর জোর দিয়েছেন।
কোইজুমি জানান, সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা জোট সুদৃঢ় করা এবং সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি বহুমাত্রিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই টোকিওর মূল লক্ষ্য। সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তনের ফলে জাপান গত ৫০ বছরে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যসহ ১৭টি চুক্তিবদ্ধ দেশে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে। এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়া জাপানি যুদ্ধজাহাজ কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া ও নিউজিল্যান্ডও জাপানি ডেস্ট্রয়ার কিনতে চেয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির প্রশাসন জাপানি সংবিধানের ‘অনুচ্ছেদ ৯’ সংশোধনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। অনুচ্ছেদটি আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে যুদ্ধ বা শক্তি প্রয়োগের অধিকারকে বর্জন করে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং একজন সংসদ সদস্য হিসেবে কোইজুমি এই সংশোধনের সমর্থন করে বলেন, ‘বিগত আট দশকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। শান্তি বজায় রাখতে আমাদের এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।’
বিশেষ করে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা জাপানের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তাকাইচি সরকার প্রতিরক্ষা বাজেট দ্বিগুণ করে জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করেছে, যা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যয় হবে। সূত্র : বিবিসি