• ই-পেপার

ফ্রিজ পরিষ্কার করে নিন আজই

  • কোরবানির আগে ফ্রিজ পরিষ্কার করা জরুরি। মাংস সংরক্ষণ করার আগে ফ্রিজ একদম পরিষ্কার, গন্ধমুক্ত আর জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। লিখেছেন মেহরীমা ইতি

খোঁজখবর

খোঁজখবর

মাকালুজয়ী বাবর আলীর সঙ্গী স্যাম-বন্ড

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আট হাজার ৪৮৫ মিটার উচ্চতার মাউন্ট মাকালু জয় করে ইতিহাস গড়েছেন পর্বতারোহী বাবর আলী। এটি বিশ্বের পঞ্চম সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। তাঁর দুঃসাহসিক স্বপ্নজয়ের যাত্রায় সম্পৃক্ত ছিল অ্যাডহেসিভ ব্র্যান্ড স্যাম-বন্ড। সম্প্রতি বাবর আলী মাকালুর চূড়ায় আরোহণ করেন। এক বিজ্ঞপিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বাবর আলীর এই কীর্তি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্যও গর্বের। বাবর আলীর অটুট সংকল্প আর আমাদের শক্তিশালী বন্ধনের অনুপ্রেরণা মিলেমিশে একাকার হয়েছে মাকালুর চূড়ায়। এমন অদম্য যাত্রার অংশ হতে পারা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। বাবর আলী এর আগে এভারেস্ট, লোতসে ও অন্নপূর্ণা-১ জয় করেছেন। তাঁর আগের অভিযান ‘মানাসলু’ জয়েও পাশে ছিল স্যাম-বন্ড।

খোঁজখবর

মেঘের ঈদ পোশাক

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছোট ও বড়দের জন্য নতুন পোশাক এনেছে ফ্যাশন হাউস মেঘ। পোশাকের নকশায় প্রাধান্য পেয়েছে দেশীয় আমেজ। উত্সবের থিমের পাশাপাশি গরমে আরামের বিষয়টিও প্রাধান্য দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ জন্য সুতি, লিনেন ও খাদির মতো আরামদায়ক কাপড় বেছে নেওয়া হয়েছে। ছেলেদের শার্ট, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, হাফ ও ফুল হাতা কাতুয়া, মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, সিঙ্গল কামিজ, আনস্টিচ, ছোটদের ফতুয়া, কাতুয়া, পাঞ্জাবি, ফ্রক ও টি-শার্ট পাওয়া যাবে মেঘে। পরিবারের সব সদস্য এবং কাপলদের জন্য পাওয়া যাবে একই রং ও নকশার পোশাক। খুচরার পাশাপাশি পাইকারি হিসেবেও পণ্য কেনা যাবে মেঘ থেকে। ঘরে বসে অনলাইনেও অর্ডার করেও কিনতে পারবেন। সরাসরি কিনতে চাইলে যেতে হবে শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে। ঠিকানা : আজিজ সুপার মার্কেট (নিচতলা), শাহবাগ, ঢাকা। ফেসবুক পেজ : facebook.com/meghfashionbd

খোঁজখবর

সারিনার ঈদ আয়োজন

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সুস্বাদু খাবারের বর্ণিল আয়োজন করেছে হোটেল সারিনা, ঢাকা। ঈদ উৎসবে গ্রাহকদের ডাইনিংয়ের নতুন অভিজ্ঞতা দিতে সেজেছে হোটেলটির সামারফিল্ডস, আমরিট, রিসট্টো ও স্ট্রিট সেভেনটিন ক্যাফে। পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে এখানে পাবেন এক্সক্লুসিভ ঈদ প্লেটারস, বুফে এক্সপেরিয়েন্স এবং গুরমে ডিলাইটস। স্ট্রিট ১৭ ক্যাফেতে থাকছে স্লাইডার সেট, চিকেন কম্বো, মো মো বাস্কেটস, ফিশ অ্যান্ড চিপস, শাহি নলি নেহারিসহ বিভিন্ন আইটেম। হায়দরাবাদি স্ট্রিট ফুডের অভিজ্ঞতাও নিতে পারবেন এখান থেকেই। ইতালিয়ান ফাইন ডাইনিং রিসট্টোতে পাবেন ইতালিয়ান বিভিন্ন মুখরোচক পদ। হোটেলটির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, ঈদে শুধু খাবার পরিবেশনই হোটেলটির মূল লক্ষ্য নয়, বরং এমন একটি অভিজ্ঞতা প্রদান করা, যেখানে স্বাদ, পরিবেশ ও আতিথেয়তা মিলে একটি স্মরণীয় উদযাপনের অংশীদার হতে পারেন ক্রেতারা। রিজার্ভেশন ও তথ্যের জন্য যোগাযোগ : ০১৩২৯৬৮৪৫৪২

 

 

মাংস সংরক্ষণের তিন উপায়

মাংস সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি না জানার কারণে অনেক সময় মাংসের স্বাদ ও পুষ্টি কমে যায়। সঠিক উপায় জানাচ্ছেন ফাতেমা ইয়াসমীন

মাংস সংরক্ষণের তিন উপায়

রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ

ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণ করতে চাইলে তাজা মাংস বড় বড় টুকরা করে কেটে নিন। ধোবেন না। শুকনা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মাংসে লেগে থাকা রক্ত মুছে নিন। এরপর ফ্যানের বাতাসে কিছুক্ষণ রেখে শুকিয়ে নিতে পারেন। এরপর জিপলক পলিব্যাগে প্যাকেট করে মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে সংরক্ষণ করুন। এতে দীর্ঘদিন মাংসের পুষ্টি ও গুণমান ঠিক থাকবে।

রেফ্রিজারেটর ছাড়া সংরক্ষণ

যাঁদের বাসায় ফ্রিজ নেই, তাঁরাও চাইলে মাংস কিছুদিনের জন্য সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। এ জন্য মাংস চাকা চাকা করে কেটে ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। হাঁড়িতে তেল গরম করে মাংস দিন। এমনভাবে রান্না করুন, যেন মাংস পুরোপুরি সিদ্ধ হয়। খেয়াল রাখতে হবে, সিদ্ধ হওয়ার পর মাংস যাতে তেলের মধ্যে ডুবে থাকে। দু-এক দিন পর পর তেলে ডোবানো মাংস গরম করুন। এভাবে প্রায় এক মাস পর্যন্ত ফ্রিজ ছাড়াই মাংস সংরক্ষণ করে খেতে পারবেন।

শুকিয়ে সংরক্ষণ

তাজা মাংস ধুয়ে পাতলা টুকরা করে হলুদ ও লবণ মাখিয়ে নিন। প্রতি কেজি মাংসে দুই চা চামচ হলুদ গুঁড়া ও এক টেবিল চামচ লবণ মাখাতে হবে। এবার একটি তার পানিতে ফুটিয়ে জীবাণুযুক্ত করে তাতে টুকরা করা মাংস গেঁথে রোদে শুকাতে দিন। চুলার ওপরও তার ঝুলিয়ে আগুনের তাপে মাংস শুকাতে পারেন। এই শুকনা মাংস এয়ারটাইট বাক্সে সংরক্ষণ করুন। এই মাংস তিন মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করে খেতে পারবেন। রান্নার আগে এই মাংস পাঁচ-ছয় ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন।

 

 

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন

অনেকেই সারা বছর ছুটি পান না। লম্বা ছুটি পান শুধু দুই ঈদে। এই ফাঁকে পরিবার নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তাঁদের জন্য দেশ ও দেশের বাইরের ১০টি দর্শনীয় স্থান বাছাই করেছেন শিমুল খালেদ

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন
ঈদের ছুটিতে স্বল্প খরচে ঘুরে আসতে পারেন নেপালের পর্যটন স্থান পোখারা থেকে। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ

শ্রীমঙ্গল

প্রাকৃতিক নিসর্গের অনন্য এক উদাহরণ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। বন্ধুবান্ধব, পরিবার-পরিজন বা একান্তে ভ্রমণের জন্য চমত্কার এক জায়গা। চা-বাগানের সুনিপুণ সারি সারি টিলা, অরণ্যের নয়নাভিরাম রূপ, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথের মোহমায়াসব মিলিয়ে শ্রীমঙ্গল যেন এক অপরূপ লীলাভূমি। আপনার ঈদ ভ্রমণের জন্য প্রথম পছন্দ হতে পারে শ্রীমঙ্গল। এখানে আরো দেখতে পাবেন খাসিয়া, মণিপুরি, গারো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর জীবনধারা। রয়েছে আনারস, লেবু ও পানের ক্ষেত, মাধবপুর হ্রদ, চা-বাগান, চা গবেষণা কেন্দ্র, হামহাম জলপ্রপাত, লাউয়াছড়া অরণ্য, বাইক্কা বিল, ওয়ার সিমেট্রি, হরিণছড়া গলফ মাঠ, সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা প্রভৃতি। ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলের বাস ভাড়া ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। এ ছাড়া জয়ন্তিকা, কালনী, পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনে যেতে পারেন। থাকার জন্য হোটেল-রিসোর্টের ভাড়া পড়বে মানভেদে এক থেকে ১০ হাজার টাকা।

কক্সবাজার

সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজার দেশের ভ্রমণপিপাসুদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গা। প্রায় ১২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সমুদ্রসৈকত উত্তাল সামুদ্রিক ঢেউ, মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত, সামুদ্রিক মাছের বৈচিত্র্য, আর মেরিন ড্রাইভ রোডের রোমাঞ্চের জন্য পর্যটকদের কাছে টানে। বর্ষা মৌসুমে পরিষ্কার আকাশ, আর্দ্র শীতল বাতাস, সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ নিয়ে নয়নাভিরাম রূপে সাজে কক্সবাজার। তাই বৃষ্টি-বাদলের সম্ভাবনা থাকা এবারকার ঈদে ঘুরে আসতে পারেন এই সৈকত শহর। আরো দেখতে পারেন মহেশখালী দ্বীপ, মেরিন ড্রাইভ রোড, টেকনাফের কুদুম গুহা, রামু রাবারবাগান ও বৌদ্ধ বিহার, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড, পাটুয়ারটেক সৈকত ইত্যাদি। ঢাকা থেকে বিলাসবহুল স্লিপারসহ এসি, নন-এসি বাসে ভ্রমণ করতে পারেন। ভাড়া এক থেকে তিন হাজার টাকা। কক্সবাজার এক্সপ্রেস বা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনেও যেতে পারেন। ভাড়া ৭০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা। থাকার জন্য আছে প্রিমিয়াম, ডিলাক্স ও বাজেট শ্রেণির হোটেল-রিসোর্ট। ভাড়া এক থেকে ৩০ হাজার টাকা।

রাঙামাটি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাম ছাড়া ওই রাঙামাটির পথ কার না পছন্দ! সেই রাঙামাটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন হ্রদ-পাহাড়ের দেশখ্যাত এই পার্বত্য জেলায়। প্রকৃতির অপূর্ব লীলাভূমি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও নৃতাত্ত্বিক কৃষ্টি মিলে রাঙামাটি পর্যটকদের কাছে অন্যতম পছন্দের নাম। রাঙামাটি ভ্রমণে ঘুরতে পারেন কাপ্তাই হ্রদের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য, শুভলং ঝরনা, ঝুলন্ত সেতু, বনরূপা বাজার, রাজবন বিহার, কাপ্তাই জলবিদ্যুত্ কেন্দ্র, বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্সনায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি ভাস্কর্য ইত্যাদি জায়গায়। ঢাকা থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস পাবেন রাঙামাটি রুটে। ভাড়া ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা। রাতযাপনের জন্য হোটেল-রিসোর্ট বুক করতে পারবেন এক থেকে পাঁচ হাজার টাকায়।

সিলেট

প্রাকৃতিক নিসর্গের অনন্য এক লীলাভূমি সিলেট। সবুজ পাহাড়, চা-বাগান, খরস্রোতা নদী, পাথুরে ঝরনা, হাওর-বাঁওড়ের সৌন্দর্যসবই আছে সিলেটে। বিশেষত বৃষ্টির সময়ে সিলেট দারুণ মনোমুগ্ধকর রূপ ধারণ করে। ঘুরতে পারেন লালাখাল, বিছানাকান্দি, পান্থুমাই, রাতারগুল, জাফলং, ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর, নলজুরী খাসিয়া মাঠ, খাদিমনগর উদ্যান, হরিপুর আগুন পাহাড় প্রভৃতি জায়গায়। ঢাকা থেকে সিলেট অভিমুখে বাস ভাড়া ৭০০ থেকে দেড় হাজার টাকা। হোটেল-রিসোর্টের ভাড়া এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা।

পঞ্চগড়

লোকালয় ছেড়ে একটু দূরে কোথাও ঘুরে আসতে চাচ্ছেন? তাহলে যেতে পারেন হিমালয়কন্যা খ্যাত পঞ্চগড়। সমতলের চা-বাগান আর ঐতিহাসিক নিদর্শনের জন্য পঞ্চগড় সুপরিচিত। উত্তরের সর্বশেষ এই জনপদে ঘুরে দেখতে পারেন তেঁতুলিয়ার বাহারি সব চা-বাগান, দেশের উত্তর প্রান্তের শেষ বিন্দু বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, মহানন্দা নদী, তেঁতুলিয়া ডাক বাংলো, ভিতরগড় দুর্গ, মহারাজার দীঘি, কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট বাংলো, রকস মিউজিয়াম ইত্যাদি। ঢাকা থেকে পঞ্চগড় রুটে বাস ভাড়া এক হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা। দ্রুত যান, একতা, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনেও যেতে পারবেন। থাকার জন্য হোটেল পাবেন এক থেকে তিন হাজার টাকায়।

 

বিদেশ

পোখারা

সাত হ্রদের শহর নামে পরিচিত পোখারা হিমালয়ের দেশ নেপালের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন শহর। নেপালের কাঠমাণ্ডু উপত্যকার পশ্চিমে অবস্থিত এই শহরে বেশ কিছু জনপ্রিয় পর্যটন স্থান রয়েছে। দেখতে পারেন ফেওয়া লেক, ডেভিস ফলস, নাগরকোট, মহাদেব গুহা, শরণকোট, মাহেন্দ্র গুহা, মাউন্টেইন মিউজিয়াম, গুর্খা মেমোরিয়াল মিউজিয়াম, অন্নপূর্ণা বাটারফ্লাই মিউজিয়াম ইত্যাদি। প্যারাগ্লাইডিং, বাঞ্জি জাম্প এবং ট্রেকিংয়ের জন্যও পরিচিত পোখারা। প্রথমে যেতে হবে নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডু। ঢাকা থেকে আকাশপথে ফিরতি টিকিট পড়বে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। চার-পাঁচ দিনের ভ্রমণে আরো ২০ হাজার টাকা খরচে ঘুরে আসতে পারবেন।

শিলং

মেঘালয়ের রাজধানী শিলং বাংলাদেশিদের জন্য একটি জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য। এই পাহাড়ি শহরটি পরিচিত তার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক নিসর্গের জন্য। শিলং বেড়াতে গিয়ে ঘুরতে পারেন উমিয়াম লেক, লাইটলুম ক্যানিয়ন, ডন বস্কো মিউজিয়াম, এলিফ্যান্ট ফলস, চেরাপুঞ্জি, মাউসুমাই গুহা, মাওলিনং ভিলেজ, লিভিংরুট ব্রিজ, সেন্ট ক্যাথিড্রাল প্রভৃতি স্থানে। সিলেট ভ্রমণের জন্য সিলেটের ডাউকি সহজ রুট। তিন দিনের দলগত ভ্রমণে জনপ্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচে ঘুরে আসতে পারবেন।

ক্যান্ডি

ক্যান্ডি শহরকে বলা হয় শ্রীলঙ্কার সাংস্কৃতিক রাজধানী। কলম্বো থেকে ১১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই শহর, যার সন্নিকটে রয়েছে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে উঁচু এলাকা নুয়ারা এলিয়া। নুয়ারা এলিয়া এর পাহাড়ি এলাকা ও চা-বাগানের সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। শ্রীলঙ্কা ভ্রমণে ক্যান্ডি এসে ঘুরতে পারেন পিনাতলা হাতি আশ্রম, ক্যান্ডি লেক, নুকলস পর্বত, হুলু ঝরনা, বাহিরায়ান্ডা টেম্পল, রয়াল বোটানিক্যাল গার্ডেন, কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি, ওয়েলস পার্ক, সিলন চা জাদুঘর, র্যানওয়েলি মসলাবাগান ইত্যাদি জনপ্রিয় জায়গায়। শ্রীলঙ্কা ভ্রমণে বিমানভাড়া যাওয়া-আসা মিলিয়ে পড়বে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মতো। পাঁচ-ছয় দিনের ভ্রমণে আরো ৩০ হাজার টাকা খরচ পড়বে ক্যান্ডিসহ শ্রীলঙ্কা ভ্রমণে।

ব্যাঙ্কক

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্কক পূর্ব এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় একটি ভ্রমণ গন্তব্য। সারা বিশ্বের পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় একটি স্থান। ঐতিহাসিক রাজপ্রাসাদ, জমকালো প্যাগোডা, মুখরোচক স্ট্রিট ফুড আর নান্দনিক শপিং মলের জন্য বিখ্যাত। ব্যাঙ্ককের যেসব স্থানে ঘুরতে পারেন তার মধ্যে অন্যতম গ্র্যান্ড প্যালেস, ওয়াটকো ওয়াট অরুণ, ওয়াট ফ্রাকাইয়ো প্যাগোডা, ফ্লোটিং মার্কেট, লুম্বিনি পার্ক, ব্যাঙ্কক ন্যাশনাল মিউজিয়াম প্রভৃতি। বিমানভাড়া পড়বে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকার মতো। চার-পাঁচ দিনের ভ্রমণে আরো ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচে ঘুরে দেখতে পারেন এই নান্দনিক দেশ।

মালে

ভারত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত দ্বীপ দেশ মালদ্বীপের রাজধানী মালে মূলত বেশ কিছু দ্বীপের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি শহর। মালে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় একটি ভ্রমণ স্থান। প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক মালেতে ভিড় জমান। মালে ভ্রমণে ঘুরতে পারেন প্রবাল পাথরের মসজিদ, হুকুরু মিউজিয়াম, সুলতান পার্ক জাতীয় উদ্যান, সিনামালে ব্রিজ, মালে ফিশ মার্কেট ও স্থানীয় মার্কেট ইত্যাদি। চার-পাঁচ দিনের ভ্রমণে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচে ঘুরে দেখতে পারেন এই নান্দনিক দেশ।

 

 

 

 

 

চিকিৎসকের মানা

তাই বলে মাংস খাবেন না?

গরুর মাংসের স্বাদের সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা চলে না। যাঁদের গরুর মাংস খাওয়া বারণ, এই স্বাদ ভুলে থাকা তাঁদের জন্য কঠিনই। তবে কিছু টিপস মেনে পরিমিত পরিমাণ চর্বিবিহীন মাংস পাতে নিতে পারেন তাঁরা। লিখেছেন পুষ্টিবিদ ও ডায়েটিশিয়ান সামসুন নাহার স্মৃতি

তাই বলে মাংস খাবেন না?
কালা ভুনা নয়, রোগীদের জন্য অল্প মসলায় রান্না করা মাংস অপেক্ষাকৃত নিরাপদ

ঈদুল আজহা উপলক্ষে মুসলমানরা বিভিন্ন পশু কোরবানি দিয়ে থাকেনধ। আমাদের দেশে বেশি জনপ্রিয় হলো গরু কোরবানি দেওয়া। গরুর মাংস পছন্দ করে না এমন মানুষ পাওয়া কঠিন। কোরবানির গরুর মাংস হলে তো কথাই নেই। যাঁর খেতে মানা, তিনিও চেখে দেখতে পিছপা হন না।

গরুর মাংস পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি খাবার। তার পরও অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক জটিলতার কারণে গরুর মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেন চিকিৎসকরা। যাঁরা হার্টের অসুখে ভুগছেন বা যাঁদের রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি কিংবা হূদরোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের জন্য বুঝেশুনে গরুর মাংস খেতে হবে। হূদরোগীদের জন্য গরুর মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে মূল শর্ত হলো পরিমিতিবোধ এবং চর্বিবিহীন মাংস খাওয়া।

সঠিক নিয়ম মেনে এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রান্না করলে পরিমিত পরিমাণে গরুর মাংস খাওয়া যাবে। উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের রোগীরা সঠিক নিয়ম মেনে রান্না করলে এবং পরিমিত পরিমাণে খেলে নিরাপদে গরুর মাংসের স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন। তাঁদের জন্য রান্নায় অতিরিক্ত চর্বি এবং লবণের ব্যবহার এড়াতে হবে। আসুন, এখন জেনে নিই নিরাপদে কিভাবে কোরবানির গরুর মাংস মানা সত্ত্বেও খেতে পারবেন।

তাই বলে মাংস খাবেন না?
সঠিক নিয়ম মেনে এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রান্না করলে যাঁরা ঝুঁকির মধ্যে আছেন, তাঁরাও পরিমিত পরিমাণে গরুর মাংস খেতে পারবেন। ছবি : সংগৃহীত

সঠিক মাংস নির্বাচন

গরুর মাংস রান্না করার আগে চর্বিবিহীন মাংস খুঁজে নিন। গরুর পাঁজর, রান বা সলোন অংশের মাংস চর্বিমুক্ত হয়ে থাকে। এ ছাড়া মাংসের গায়ে যে অতিরিক্ত চর্বি থাকে, তা সম্পূর্ণরূপে কেটে মাংস ঘণ্টাখানেক ফুটন্ত গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে মাংসের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যাবে।

অতিরিক্ত তেল ও লবণ পরিহার

রান্নায় স্বাদ বাড়াতে তেল, ঘি, বাটার ও লবণ ব্যবহার করতে হয়। রোগীদের গরুর মাংস রান্নায় এসব উপাদান কম ব্যবহার করতে হবে। গরুর ভুনা মাংস, বেক বা গ্রিলের পদের সঙ্গে সবজি বা সালাদ মিশিয়ে নিতে পারেন। গরুর মাংসে ভেষজ মসলা ব্যবহার করুন। যেমনরসুন, পেঁয়াজ, লেবুর রস ইত্যাদি। এগুলো গরুর মাংসের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।

তাই বলে মাংস খাবেন না?
শুধু মাংস নয়, সবজিসহযোগে গরুর মাংস রান্না করে খেতে হবে রোগীদের

ডায়েটারি ফাইবারযুক্ত শাক-সবজি ব্যবহার

শুধু গরুর মাংস না রেঁধে সঙ্গে শাক-সবজি যোগ করে রান্না করুন। গরুর মাংস রান্নায় পালংশাক, বাঁধাকপি, লাউ, কাঁচা পেঁপে, গাজর, বিটরুট ইত্যাদি যোগ করতে পারেন। এতে মাংসের স্যাচুরেটেড ফ্যাট সরাসরি শরীরে খারাপ প্রভাব ফেলার আগে ডায়েটারি ফাইবারের কারণে হজমপ্রক্রিয়া সহজ হয়। রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে পারে। এতে হূিপণ্ড সুস্থ থাকবে। যাঁরা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাঁরাও গরুর মাংস খেয়ে সুস্থ থাকতে পারবেন।

পরিমাণমতো খাওয়া

গরুর মাংস যতই কোরবানির মাংস হোক কিংবা খুব পছন্দের খাবার হোক, পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখতে ভুল করা যাবে না। পরিমিত পরিমাণে, সঠিক নিয়মে যদি গ্রহণ করা হয়, ক্ষতির পরিবর্তে উপকার পাওয়াটা সহজ হবে। এক বেলার খাবারে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৮৫ গ্রাম অর্থাত্ দু-তিনটি ছোট টুকরা গরুর মাংস রাখতে পারেন আপনার খাবারের থালায়।

সময় বুঝে খাওয়া

রাতের বেলা বা ডিনারের সময় গরুর মাংস এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। সকালে নাশতার টেবিলে কিংবা দুপুরের খাবারে গরুর মাংস রাখতে পারেন। অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে রাখতে হবে। কারণ রাতে আমাদের হজমের গতি ধীর থাকে। সকালে বা দুপুরে গরুর মাংস খেলে বিভিন্ন ধরনের এনজাইম তা হজম করতে সাহায্য করবে। গরুর মাংস খাওয়ার পর চিনিযুক্ত কোল্ড ড্রিংকস, চিনিযুক্ত শরবত না খেয়ে বোরহানি কিংবা টক দই রাখতে পারেন। এতে হজমশক্তি বৃদ্ধি হবে।

সতর্কতা

যাঁরা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন এবং হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে বা হার্ট ব্লকেস রয়েছে, তাঁরা গরুর মাংস খাওয়ার আগে কিছু বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন। অর্গান মিট; যেমন—মগজ, মাথার মাংস, কলিজা, হাড়ের মজ্জা বা নিহারি তাঁদের কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে খারাপ কোলেস্টেরল থাকে। এ ছাড়া প্রসেস মিট, সসেজ, কোনো প্যাকেট বা ক্যানের শুকনা গরুর মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে অতিরিক্ত লবণ ও প্রিজারভেটিভস থাকে। ফলে উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।

সাবধানতা অবলম্বন করে তার সঙ্গে যদি মাংসের পরিমাণটা সঠিক রাখেন এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে রান্না করে গরুর মাংস খেতে পারেন, তাহলে অপকার ছাড়াই উপভোগ করতে পারবেন গরুর মাংসের স্বাদ।

 

লেখক : পুষ্টিবিদ ও ডায়েটিশিয়ান

আপন হেলথকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও উত্তরা ক্রিসেন্ট হসপিটাল